ইউনূসের গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ এনবিআর!

ইউনূসের গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ এনবিআর!
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই সুযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশাল সুবিধা নিয়েছে তার সময়ে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে তার মালিকানাধীন এই কোম্পানিটিকে ৫০ শতাংশ ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদন করার শর্তে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিয়েছিলেন। তারপরও সরকারি সেই সুবিধা ভোগ করেও ইউনূসের প্রতিষ্ঠান সেই শর্ত মানেনি।

সরকারি শর্ত না মেনে তার কোম্পানি উল্টো এসব পণ্য আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

এনবিআর ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গ করে ভ্যাট সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

এই প্রমাণ থাকলেও রহস্যজনক কারণে এনবিআর প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে।

জানা গেছে, ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেতে স্মার্ট ফোনের পিসিবি, চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা ৫০ শতাংশ করার শর্ত দেয় এনবিআর। কিন্তু তারা উৎপাদন না করে আমদানি করেই চলছে।

সূত্র জানায়, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড (জিটিএল) দেশে ২০০৯ সালে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং দেশের অন্যতম মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়।

বর্তমানে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন জিডিএল, জিটিই, বেনকো এই তিন নামে মোবাইল ফোনসেট উৎপাদন করে আসছে। একই সঙ্গে লাভা ও ইনফিনিক্স নামে আরো দুটি ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারজাত করছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সাল থেকে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা নেয়। ২০২৩ সালে ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোনের চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের শর্তে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে। ইউনূসের আমলেও আরো নানাভাবে সুবিধা ভোগ করেছে বেশি।

গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনকে এসআরো-এর (আইন সংশোধন না করেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে করনীতিতে পরিবর্তন করার পদ্ধতি) মাধ্যমে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয় এনবিআর। ২০২৩ সালের আগ পর্যন্ত স্মার্ট ফোন উৎপাদনকারীদের ভ্যাট সুবিধা পেতে প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার শর্ত ছিল।

এই সময়েও গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন পরিপূর্ণভাবে শর্ত পালন না করেই ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা নিয়েছে। ২০২৩-পরবর্তী সময়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেতে স্মার্ট ফোনের পিসিবি, চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা ৫০ শতাংশ করার শর্ত দেয় এনবিআর।

এ ছাড়া এই প্রজ্ঞাপনের (এসআরো) অন্যতম শর্ত ছিল প্রতিষ্ঠানের সামনেই ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের ইউনিট থাকবে এবং উৎপাদন করবে। কিন্তু গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন উৎপাদন না করে উল্টো ব্যাটারি ও চার্জার আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

এনবিআর ও বুয়েট সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের কোনো প্রমাণ পায়নি। যা ষ্পষ্টত সরকারি বিধি লঙ্গন। এ অভিযোগে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা যায় বলে জানিয়েছেন এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

সজানা গেছে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর মোবাইল ফোনসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট মওকুফ পেলেও গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এনবিআরের ভ্যাট অব্যাহতির ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনের (টেবিল-২) ছক অনুযায়ী, কমপ্লায়েন্স সাপেক্ষে সুবিধা পেয়ে আসছে। তারা সবার চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করছে।

টেবিল-২ অনুযায়ী, ভ্যাটের হার হবে সাড়ে ৭ শতাংশ। ভ্যাট অব্যাহতির কারণে এই সাড়ে ৭ শতাংশ দিতে হবে না প্রতিষ্ঠানটিকে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির শর্ত হলো উৎপাদিত ফোনের চার্জার ও ব্যাটারির ৫০ শতাংশ নিজেরা উৎপাদন করতে হবে। আর বাকি ৫০ শতাংশ ব্যাটারি ও চার্জার আমদানি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের এই শর্ত পরিপালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যা দুটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন ভ্যাট অব্যাহতির প্রথম দিকের প্রজ্ঞাপনের শর্তই পালন করছেনা। পরবর্তী সময়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রজ্ঞাপনে নতুন করে চার্জার ও ব্যাটারি ৫০ শতাংশ উৎপাদনের শর্ত বেঁধে দিলে প্রতিষ্ঠানটি তা আর পালন করেনি। ইউনূস ক্ষমতা দখল করার পর তাদের ক্ষমতা বেড়ে যায়। আরো একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহুরুল হক বিপ্লবকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

Visited 21 times, 1 visit(s) today