ধোবাউড়া থানার ওসি: ‘স্লোগান দিয়ে এসে আগুন দেওয়ার অভিযোগের কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি।’
❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার পরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা জড়িত বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
যদিও স্থানীয়দের দাবি, মূল বসতঘরে নয়, বরং একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আগুন লাগানো হয়েছে—যা নিয়ে তারা ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ডোমগাটা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল্লাহ। গ্রামের বাড়িতে মা–বাবা, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন ও মো. সাইফুল্লাহর নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে বাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে একাধিক টিনের বসতঘর রয়েছে। তবে আগুন লেগেছে মূল বসতঘরগুলোতে নয়, একটি আলাদা ছোট রান্নাঘরে। ঘরটির তিন পাশে কাপড়ের বেড়া দেওয়া ছিল এবং ভেতরে কিছু রান্নার লাকড়ি রাখা ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘরটি বর্তমানে নিয়মিত ব্যবহৃত হয় না এবং অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কিন্তু আগুন বড় হয়নি, নিভিয়ে ফেলা হয়।’
কারা বা কী কারণে আগুন দিতে পারে—এই প্রশ্নে মো. সাইফুল্লাহর দাবি, ‘ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে, ইদানীং হুমকি বেশি ছিল। গত কয়েকটি ইস্যুতে আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছিল। এ কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে। এ ঘটনায় আমি আইন পদক্ষেপ নেব।’
এ নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি দুর্বৃত্তরা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হামলা চালাত, তাহলে বসতঘরগুলোই তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বসতঘর অক্ষত রেখে একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আগুন লাগানোর ঘটনা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
এদিকে সাইফুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাদের ঘরের টিনের বেড়ায় অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, টিনের বেড়ায় কাটার দাগের ধরন স্বাভাবিক হামলার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
সাইফুল্লাহর এক প্রতিবেশী বলেন, সাধারণত ডানহাতি কেউ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে কাটার দাগ ডান দিক থেকে বাম দিকে তির্যকভাবে পড়ে। কিন্তু ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাটার দাগগুলো বাম দিক থেকে ডান দিকে আড়াআড়িভাবে রয়েছে। এ কারণে অনেকে ধারণা করছেন, এগুলো হয়তো পরিকল্পিতভাবে কাটা হতে পারে। হয়ত বাড়ির ভেতর থেকেই টিনের ওপর কোপ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ই মার্চ রাতে ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শেয়ার দেওয়ায় ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পাভেলের ওপর নির্মম সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। মারধরের পর অচেতন অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়।
পাভেলকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আরেক পোস্টে ছাত্রলীগ দিয়ে ‘সেহরি’ করার মত পৈশাচিক বক্তব্যও দেন তিনি। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে তিনি ফেসবুক পোস্ট তার আইডি থেকে লুকিয়ে ফেলেন।
এ বিষয়ে সাইফুল্লাহর দাবি, ‘ঢাবির পাভেলকে ছাত্রলীগ অভিযোগে মারধর করে পুলিশের হাতে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে আমার ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে কি না নিশ্চিত না।’
ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, গত ৭ই মার্চ–এর একটি ঘটনার পর থেকে সাইফুল্লাহকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এতদিন তার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সাইফুল্লাহর বড় ভাই ঢাকায় চাকরি করেন এবং তিনি সম্প্রতি বাড়িতে এসেছেন। তার বাড়িতে ফেরার পরের রাতেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই সময়ের মিল নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জয়নাল আবেদীনের বক্তব্য অনুযায়ী একটি ঘরে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ দেখেছি এবং টিন কেটে গেছে। তারা নিজেরাই আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।’
ওসি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটানো হয় বলে জয়নাল দাবি করেছেন। যদিও আমরা এর পক্ষে কোনো সাক্ষী পাইনি।’

