আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর পেস বোলিংয়ের প্রাণভোমরা জাসপ্রিত বুমরাহর দরাজ প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। গতকালের সেই ফাইনালে ৯৬ রানে জিতে শিরোপা উল্লাসে মেতেছে ভারত।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সূর্যকুমার বুমরাহর প্রভাব ও বড় মঞ্চে তাঁর মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বুমরাহ এমন একজন বোলার, যে এক প্রজন্মে একবারই আসে। আমি তাঁকে জাতীয় সম্পদ বলতে পারি। সে জানে ঠিক কী করতে হবে। নিজের কাজে সে-ই সেরা।’
দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা উঁচু মানের খেলোয়াড়। আমরা জানতাম তাঁরা বিশেষ কিছু করবেন এবং ফাইনালে তাঁরা ঠিক সেটিই করে দেখিয়েছেন।’
গত দুই বছর দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দিয়ে সূর্যকুমার বলেন, ‘আমরা গত দুই বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছি। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমরা যে ভালো অভ্যাসগুলো গড়েছিলাম, সেগুলোই ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। ছেলেরা দারুণ সাড়া দিয়েছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম, এই খেলোয়াড়দের ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা আছে।’
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত একই মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের দুঃসহ স্মৃতি মুছে ফেলল। গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারত মাত্র একটি ম্যাচ হেরে তাদের আধিপত্য বজায় রাখল।
ফাইনালে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ নিউজিল্যান্ডকে কোনো সুযোগই দেয়নি। ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। জবাবে কিউইরা ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার রেকর্ড গড়ল। সেই সঙ্গে প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের মাটিতে ট্রফি জেতা এবং মোট তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ল তারা।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, ‘আজ আমরা একটি দুর্দান্ত দলের কাছে হেরেছি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলা চাপের হলেও সূর্যকুমার ও তাঁর দলের জন্য এটি গর্বের। আমরা লড়াই করেছি, কিন্তু আজ ভারতই সেরা ছিল।’
