২০২৫ সালের এমএলএস কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গৌরব উদ্যাপন করতে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি ও তাঁর ইন্টার মিয়ামি সতীর্থদের রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বললেও, ট্রাম্প দ্রুতই মিয়ামি দলের ২০২৫ সালের অভাবনীয় সাফল্য এবং ফুটবলের স্মৃতিচারণে ফিরে আসেন। তিনি সত্তরের দশকে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলা ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি পেলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে বলে হয়তো এটা বলা ঠিক হবে না, তবে আমি পেলেকে খেলতে দেখেছি। আমি জানি না, আপনি (মেসি) হয়তো পেলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। পেলে অবশ্যই অসাধারণ ছিলেন।’
মিয়ামির খেলোয়াড়রা ট্রাম্পের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন তাঁদের দলের ঐতিহ্যবাহী গোলাপি রঙের ৪৭ নম্বর জার্সি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণকে প্রতীকায়িত করে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মিয়ামির উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ, উদীয়মান তারকা তাদেও আলেন্দে এবং রদ্রিগো ডি পলের প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে লক্ষ্য করে একটি সূক্ষ্ম কটাক্ষও করেন তিনি। মেসিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টের আগে যা বলার সুযোগ হয়নি, তা বলা আমার জন্য এক বিশেষ পাওয়া— লিওনেল, হোয়াইট হাউসে আপনাকে স্বাগতম।’ এটি ছিল মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাইডেনের দেওয়া এক অনুষ্ঠানে মেসির অনুপস্থিতির প্রতি একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত।
মেসির জয়ী হওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খেলাধুলার জগতে অনেক বড় বড় খেলোয়াড়কে আসতে দেখেছি। তারা বড় বড় দলে নাম লেখায়, তাদের নিয়ে অনেক শোরগোল হয়, কিন্তু দিনশেষে তারা জিততে পারে না। এই মানুষটি (মেসি) এসেছে এবং জিতেছে। আপনার ওপর অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি চাপ থাকে, কারণ সবাই আপনার কাছে জয় প্রত্যাশা করে।’
ইন্টার মিয়ামির ২০২৫ সালের অর্জনের তালিকায় শুধু এমএলএস কাপ জয়ই ছিল না, বরং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-১ ব্যবধানে হারানোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি ছিল ইতিহাসে প্রথমবার কোনো উত্তর আমেরিকান দলের ইউরোপীয় দলকে দাপ্তরিক ম্যাচে পরাজিত করার ঘটনা।
সংবর্ধনা গ্রহণকালে দলের সহ-মালিক হোর্হে মাস বলেন, ‘যদি কেউ কঠোর পরিশ্রম করে, ত্যাগ স্বীকার করে এবং স্বপ্ন দেখে, তবে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ইন্টার মিয়ামির এই বৈশ্বিক সাফল্য শুধু মেসির একার নয়, বরং দলের প্রতিটি সদস্যের অবদানে সম্ভব হয়েছে যারা আমেরিকার ফুটবলের সংস্কৃতিকে চিরতরে বদলে দিয়েছেন।
