মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে স্পেন তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পেনকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে স্পেন-সংক্রান্ত সব ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারে এবং স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ক্ষমতা রয়েছে স্পেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নেননি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার যে দাবি ট্রাম্প তুলেছেন, স্পেন সে দাবির বিরোধিতা করে আসছে। এ নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, জোটভুক্ত ২৭টি দেশের মধ্যে পণ্য অবাধে চলাচল করে। ফলে এককভাবে কোনো সদস্য দেশের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জটিল হতে পারে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, যিনি মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন, বলেন যে স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং জোটের সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্য চুক্তিতে স্পেনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং স্পেন থেকে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও জলপাই তেল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলাকে “অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। মাদ্রিদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী হওয়ায় তারা দক্ষিণ স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ইরান-সংক্রান্ত অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না।
এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করলেও দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেননি।
