❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
মিথ্যা মামলায় রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখল করতে ওই নেতার স্ত্রী সন্তানকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন যুবদল নেতা। অফিসে এসে হামলা-ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ম্যানেজারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলসহ প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছে যুবলীগ নেতার পরিবার।
এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তুমুল সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে দায় সেরেছে যুবদল।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর নগরের কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত ডিশ ক্যাবল ও ওয়াই-ফাই সংযোগের ব্যবসা পরিচালনা করতেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফিড অপারেটর হিসেবে ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। এজন্য সরকারকে নিয়মিত করও পরিশোধ করে আসছে তার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বৈছা আন্দোলনের ভিত্তিহীন মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এই সুযোগে তার ব্যবসার দখল নিতে রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান (মনু) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ (গালিব)সহ কয়েকজন উঠেপড়ে লাগে। তারা অফিসে এসে ভাঙচুরসহ ম্যানেজারকে হুমকিও দেন। এমনকি যুবলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানকেও বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অসহায়ত্বের বিষয়টির প্রমাণ পেয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া এক চিঠিতে অভিযুক্তদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অনুরোধ জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের ব্যবসা হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বৈধ ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন যুবদল নেতারা।
এ ঘটনায় তারা থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর পর গত শনিবার হারুন অর রশিদের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি তুলে ধরেন।
কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, রোববার বিকেল ৪টার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানসহ ১৫০-২০ জন প্রবেশ করেন। তারা ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদকে মারধর এবং অফিসের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেন।
তাদের কথা না শুনলে সন্তানসহ তাকে গুলি করে হত্যারও হুমকিও দেন।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অফিসে অবস্থানকালে আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার মাহাদি হাসানকে ফোন করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বাসায় গিয়ে গুলি করার হুমকি দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে তামজিদুর রশিদ দাবি করেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত লাইনটি তার ছিল। অবরোধের সময় তিনি কারাগারে থাকাকালে হারুন অর রশিদ লাইন দখল করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, তিনি কোনো অন্যায় করেননি বা কাউকে মারধর করতে যাননি; বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। অফিসে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম উল্লেখ করায় কেউ হয়তো সেখানে গিয়ে কথা বলেছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এ প্রসঙ্গে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, রোববার রাতে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা করেছেন। মামলায় তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
