ভাষা সৈনিক অলি আহাদ কন্যা রুমিন ফারহানাকে শহিদ মিনারে ফুল দিতে বাঁধা বিএনপি’র, ছিড়ে ফেলা হয়েছে পুষ্পস্তবক

ভাষা সৈনিক অলি আহাদ কন্যা রুমিন ফারহানাকে শহিদ মিনারে ফুল দিতে বাঁধা বিএনপি’র, ছিড়ে ফেলা হয়েছে পুষ্পস্তবক
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র এমপি ও ভাষাসৈনিক অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহিদ মিনারে ফুল দিতে দেয়নি।

সরাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিতে গেলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করে বিএনপির উশৃঙ্খল কর্মীরা। তারা এমপির পুস্পস্তবক ছিড়ে ফেলে এবং আপত্তিকর স্লোগান দেয়। পরে বাধার মুখে শহিদ মিনারে ফুল না দিয়েই চলে আসেন রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকরা। এর প্রতিবাদে এমপির সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

শুক্রবার রাত ১২টার পর একুশের প্রথম প্রহরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুধীজন নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছেন।

জানা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে আসেন।

এসময় বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানাকে ঘিরে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকে। পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলে তার। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে প্রশাসন রুমিন ফারহানাকে তার গাড়িতে তুলে দেয়। কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আসেন রুমিন ফারহানা। একই সময়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এনিয়ে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যেও দুই উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দাড়িয়ে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিড়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

এদিকে, এই ঘটনার পর ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী সমর্থকরা। এসময় সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে এই ঘটনার বিচার দাবি করেন তারা। বিএনপির উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিচার দাবি করেন তারা।

রুমিন ফারহানা এমপি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই। সে সময় বিএনপি’র কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। আমার পুষ্পস্তবক ছিড়ে ফেলে। আপত্তিকর স্লোগান দেয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এই বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today