কারাবন্দি ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তির দাবিতে সাভারে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মানববন্ধন

কারাবন্দি ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তির দাবিতে সাভারে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মানববন্ধন
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক


সংসদ সদস্য (সাবেক), আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মুক্তির দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

আজ ২০শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে সাভার মহাসড়কের একটি ব্যস্ত অংশে কয়েকজন নেতাকর্মী এই কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এসময় ব্যারিস্টার সুমনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কারাবন্দি নেতাকর্মীদেরও মুক্তির দাবি জানান। এসময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।

মানববন্ধনের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

দলের নেতাকর্মীরা বলেন, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো পদক্ষেপ হলে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

মানববন্ধন চলাকালে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের জঙ্গি হামলার মাধ্যমে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন দুপুরের পর এক শ্রমিক নিহতের মামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।

২০২৪ সালের ২১শে অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর থেকে ব্যারিস্টার সুমন কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েক দফায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে তাকে। প্রায় এক বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত!

কারাবন্দি ব্যারিস্টার সুমন নিজে একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হলেও পাননি ন্যুনতম ন্যায়বিচার এবং আসামি হিসেবে মানবাধিকার, এমন অভিযোগ তার আইনজীবী জহিরুল ইসলামের। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যারিস্টার সুমনের মামলার এক শুনানির দিন আদালতের কাছে আর্জি পেশ করে বলেন, “ব্যারিস্টার সুমন উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ২৫নং আসামি। মামলার বিষয়ে তার সাথে কথা বলার জন্য ২০ বা ১৫ মিনিট সাক্ষাতের প্রার্থনা করছি।”

এসময় মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করে বলেন, “এ আসামি এজলাসে আসার পর ৩০ মিনিট আইনজীবী ছাড়াও অনেকের সাথে কথা বলেছেন। আরও কথা বলতে চান।”

এরপর আদালত ব্যারিস্টার সুমনসহ আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে তার ওপর মব হামলার চেষ্টা করা হয়। একইসাথে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিএনপি, জামায়াত-শিবির, এনসিপিসহ জুলাই দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারীরা। এসময় ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বলেন, “ভালো থাকুক বাংলাদেশ। ভালো থাকুক বাংলাদেশ। আর কিছু না।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির এসআই শাখাওয়াত হোসেন ২০২৫ সালের ২৮শে আগস্ট ব্যারিস্টার সুমনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৭ই সেপ্টেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

মামলার বিবরণীর বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন ৩৫ বছর বয়সী মো. রিয়াজ। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ফারজানা বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১৩ জনকে আসামি করে এক বছর পর, ২০২৫ সালের ২২শে জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। ব্যারিস্টার সুমন মামলার ২৫নং আসামি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা) আসন থেকে সুমন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সুমন প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন নির্বাচনে।

বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে পোস্ট ও লাইভ করে আলোচিত ছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার কারণে দেশে-বিদেশে তার প্রচুর অনুরাগী রয়েছেন।

Visited 20 times, 1 visit(s) today