নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়াশিংটন, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আজ শুক্রবার এক যুগান্তকারী ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) নীতির বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
আদালতের মতে, ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (IEEPA) আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ব্যাপক শুল্ক আরোপের কোনো সুস্পষ্ট ক্ষমতা নেই।
চিফ জাস্টিস জন রবার্টস লিখিত মতামতে উল্লেখ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট “অসীম পরিমাণ, মেয়াদ এবং পরিধির ট্যারিফ একতরফাভাবে আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা” দাবি করেছেন, কিন্তু IEEPA-তে এমন কোনো অনুমোদন নেই। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই আইন জাতীয় জরুরি অবস্থায় নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু শুল্ক আরোপ (যা মূলত করের একটি রূপ) এর আওতায় পড়ে না।
সংবিধান অনুসারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রধানত কংগ্রেসের।এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে গুরুতর আঘাত হেনেছে। ২০২৫ সালের ‘Liberation Day’-এ ঘোষিত এই ট্যারিফগুলোতে প্রায় সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০% সাধারণ শুল্ক এবং চীন, মেক্সিকো, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে উচ্চতর হার (যেমন ২৫%) আরোপ করা হয়েছিল।
মাদক চোরাচালান, অভিবাসন এবং বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখিয়ে এগুলো আরোপ করা হয়।
রায়ের ফলে এই ট্যারিফগুলোর বড় অংশ বাতিল হয়ে যাবে, যদিও স্টিল-অ্যালুমিনিয়ামের মতো অন্য আইনের অধীনে আরোপিত কিছু শুল্ক অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকারকে ১৩০-১৭৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ট্যারিফ ফেরত দিতে হতে পারে, যা আমদানিকারকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফেরত প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রায়কে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা অন্যান্য আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেবে।
এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা এবং কংগ্রেসের কর আরোপের একচ্ছত্র অধিকারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাহায্য করবে এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা কমাতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি সম্পূর্ণ শেষ হয়নি—শুধু এই নির্দিষ্ট পথটি বন্ধ হয়েছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ অনেক দেশ এই ট্যারিফের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন নতুন করে বাণিজ্য আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
Visited 4 times, 1 visit(s) today
