সরকারি চাকরির বিধিমালা ভঙ্গ করে পিআইবি মহাপরিচালকের সরকারবিরোধী মন্তব্য

সরকারি চাকরির বিধিমালা ভঙ্গ করে পিআইবি মহাপরিচালকের সরকারবিরোধী মন্তব্য
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাকরিরত অবস্থায় সরকারের সমালোচনামূলক একটি পোস্ট করেছেন। এতে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে সরকারের প্রতি নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ এ প্রকাশিত সরকারের অতিরিক্ত গেজেটের তথ্যসুত্র উল্লেখ করে লেখেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, জুলাই সনদে স্বাক্ষর এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের পর সরকারের এ বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না।”

তিনি বলেছেন, জনগণের সম্মতি পাওয়ার পর সংস্কার পরিষদ গঠন এবং শপথ গ্রহণে সরকার নৈতিক ও আইনত বাধ্য।

এ ধরনের পোস্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সাম্প্রতিক নির্দেশনা লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক (জানুয়ারি ২০২৫) নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’ অনুসরণ করে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও আপলোড করা, লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি দণ্ডনীয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরকার-বিরোধী বা সমালোচনামূলক মন্তব্য করা শৃঙ্খলা ভঙ্গের আওতায় পড়ে, যা শাস্তিযোগ্য।

ফারুক ওয়াসিফ পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা। তার এই পোস্ট সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের সরাসরি সমালোচনা করেছে, যা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

Visited 178 times, 1 visit(s) today