সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে। মস্কোর পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চার বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, আলোচনা বুধবার সকালে আবার শুরু হবে। তিনি বলেন, বৈঠকে সম্ভাব্য সমাধানের বাস্তব দিক ও প্রয়োগযোগ্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের ফলাফল তিনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি এক ভিডিও ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেন হামলা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত, যদি সত্যিকারের শান্তির পথ খুলে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চায় না, বরং নিজের রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় লড়ছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ এবং দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় বিভিন্ন ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনার মাঝেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৪০০ ড্রোন ও ৩০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ১২টি অঞ্চলে আঘাত হানা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তারা ১৫০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছেন। রাশিয়ার পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহকারী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং আরও অঞ্চল ছাড়ের দাবি করছে, যা কিয়েভ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেন বলছে, পশ্চিমা দেশগুলোর দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, জেনেভার আলোচনায় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও বাস্তব শান্তির পথে বড় কোনো অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
