পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মূল নীতিমালায় সমঝোতার দাবি ইরানের

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মূল নীতিমালায় সমঝোতার দাবি ইরানের
শেয়ার করুন

ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ “মূল নীতিমালা” নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক বিষয়ে কাজ বাকি রয়েছে।

মার্কিন পক্ষও জানিয়েছে, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষ সাধারণ লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর বক্তব্য ও সামরিক হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই মন্তব্য করেছিলেন, তার বিশ্বাস ইরান এবার সমঝোতায় আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা আশঙ্কা করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে—যদিও তেহরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। আলোচনার আগে ইরান জানায়, তারা মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েই জোর দেবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ আরও কিছু ইস্যু আলোচনায় আনতে চায়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো বহু খুঁটিনাটি বিষয়ে সমাধান দরকার। তার মতে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান কিছু বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক দিক থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত কিছু “রেড লাইন” ইরান এখনো পুরোপুরি মানতে রাজি নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির জবাবে বলেন, শুধু বিমানবাহী রণতরী নয়, বরং সেটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ফলাফল আগেভাগেই নির্ধারণ করতে চাইছে, যা ভুল ও অযৌক্তিক।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে তিনি এটিও বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

সব মিলিয়ে, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে আলোচনা ও চাপ—দুটিই সমান্তরালে চলছে।

Visited 1 times, 1 visit(s) today