নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পরও বর্তমান বা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ দাবি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ আজ বুধবার জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন। রিটে জুলাই জাতীয় সনদকে অবৈধ, অসাংবিধানিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এর কার্যকারিতা স্থগিত (স্টে) করার আর্জি জানানো হয়েছে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটের মূল যুক্তি
রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বা পরিচালনার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে (নভেম্বর ২০২৫) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলেও তা চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে সংসদ না থাকায় এবং সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় এ ধরনের সরকার অবৈধ।জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোট (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং এর ফলাফলও অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছে। সনদে উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব পাসসহ বিভিন্ন বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে গণভোট বা এ ধরনের চার্টার/সনদ প্রণয়নের কোনো বিধান নেই বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (প্রধান উপদেষ্টা: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস) স্বৈরতন্ত্র রোধ ও সংস্কারের লক্ষ্যে এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করে। সনদে নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৪টির মতো সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপুল জয় হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষণা করা হয়। এরপরই এর বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। এর আগে গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে আরেকটি রিট দায়ের হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে আপিল বিভাগের রায়ে ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) পুনরুজ্জীবিত হয়। কিন্তু তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের (চতুর্দশ সংসদ) জন্য প্রযোজ্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই হয়েছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দেওয়া হয়েছে (১৭ ফেব্রুয়ারি গেজেট)।
রিটকারীদের দাবি, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণভোট বা সনদ বাস্তবায়ন অবৈধ। এটি সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।এই রিটের ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে সবার নজর।
