কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর পুনরায় জন্ম হতো না আর বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে আপনারা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না। অথচ আপনাদের ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘‘দেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করতে পারতো না। বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে আপনারা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না। অথচ আপনাদের ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতের আমির যখন যা সুবিধা মনে করছেন, তখন সেই পথ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার আসল চরিত্র ধরা পড়েছে।’’
জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, ‘‘জামায়াতের আমির বলেছেন- মেয়েরা এমপি হতে পারবে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। অথচ আপনারা এই বেগম খালেদা জিয়ার অধীনেই মন্ত্রী হয়েছিলেন।’’
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘তারা ক্ষমতায় থাকলে নারী অধিকার থাকবে না। মেয়েরা অফিস-আদালত কিংবা রাজনৈতিক দল- কোথাও ভালো কোনো পদ পাবে না।’’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং হাসিবুর রহমান হাসিবসহ জেলা বিএনপির নেতারা।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ সারাদেশে রাজাকার, আলবদর ও আল-শামস বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী হিসেবে গণহত্যা চালায়।
দেশ স্বাধীনের পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জামায়াতে ইসলামী’র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি যড়যন্ত্রীদের প্রকাশ্য ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে তিনি স্বপরিবারে নিহত হন।
এরপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে জামায়াতে ইসলামীর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ তৈরি করে দেন।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে আইডিএল জোটে অংশ নিয়ে একাধিক আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
তারপর ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪০ আসনে পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্টতা না পাওয়ায় জামায়াতে ইসলামী’র ১৮ টি আসন নিয়ে বিএনপিকে সমর্থন জানালে সরকার গঠন করেন খালেদা জিয়া।
এরপর ১৯৯৯ সালে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট মিলে চারদলীয় জোট গঠন করে।
এই ৪ দলীয় জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী’র দুই যুদ্ধাপরাধী পান দেশের মন্ত্রীত্ব, গাড়িতে উঠে লক্ষ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া জাতীয় পতাকা।
