ইউয়ানকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রায় পরিণত করতে চায় চীন: শি জিনপিং

ইউয়ানকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রায় পরিণত করতে চায় চীন: শি জিনপিং
শেয়ার করুন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীনা ইউয়ানকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বেইজিং। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় চীনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

চীনের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ইউয়ানের আন্তর্জাতিক ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে শি জিনপিং প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি একটি শক্তিশালী মুদ্রা ও তার পেছনে প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে চান, যা চীনকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলবে।

দলীয় সাময়িকী ‘চিউশি’-তে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে শি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এমন একটি শক্তিশালী মুদ্রা গড়ে তোলা জরুরি, যা ভবিষ্যতে রিজার্ভ মুদ্রার মর্যাদা পেতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করতে হবে, প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ, যার উদ্দেশ্য বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের প্রভাব কিছুটা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ তাদের মুদ্রা ঝুঁকি ও ডলারনির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়। চীনের আর্থিক বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশ আরও সহজ করা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শি জিনপিংয়ের এই ঘোষণা বিশ্ব আর্থিক বাজারে বড় বার্তা দিতে পারে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের মূল্য হ্রাসকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, এতে মার্কিন ব্যবসা ও রপ্তানি খাত উপকৃত হবে। তিনি আরও দাবি করেন, চাইলে তিনি ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তবে আপাতত তা প্রয়োজন মনে করছেন না।

একই সঙ্গে ট্রাম্প অতীতে চীন ও জাপানের মুদ্রার অবমূল্যায়নের চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ মার্কিন পণ্যের জন্য অন্যায্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে।

Visited 3 times, 1 visit(s) today