জুনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন জেলেনস্কি

জুনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন জেলেনস্কি
শেয়ার করুন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আগামী জুনের মধ্যেই বন্ধ হোক। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং কিয়েভ এতে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছে।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জরুরি।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা জুনের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই তাগিদে ভূমিকা রাখছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল জানান, সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎ লাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউক্রেনেরগো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং প্রতিবেশী পোল্যান্ডের কাছে জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

জেলেনস্কির দাবি, এক রাতে ৪০০টির বেশি ড্রোন ও ৪০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অধিকাংশ ভূপাতিত করা হলেও কিছু হামলায় অন্তত চারটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানায় হাজারো মানুষ অন্ধকারে পড়েছে।

রিভনে অঞ্চলে একজন নিহত এবং জাপোরিঝঝিয়ায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভে নিরাপত্তার জন্য বহু মানুষ আবারও মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্ভের অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানি তৈরির একটি কারখানা এবং সারাতভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে আঘাত করা হয়েছে।

রাশিয়া এসব হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মস্কো কিয়েভের বিরুদ্ধে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগ তুলেছে।

জেলেনস্কির দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ষাট হাজারের কাছাকাছি।

Visited 6 times, 1 visit(s) today