মার্কিন মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে দুই দিনের শান্তি আলোচনা শেষ হলেও বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি রাশিয়া ও ইউক্রেন। তবে আলোচনার মধ্যেই উভয় পক্ষ দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যুদ্ধবন্দি ও বেসামরিক নাগরিক বিনিময় সম্পন্ন করেছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ১৫৭ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন, যাদের মধ্যে সাতজন বেসামরিক। অপরদিকে রাশিয়া জানায়, একই সংখ্যক ১৫৭ জন রুশ সেনাকে ইউক্রেনের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। চার মাসের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের বন্দি বিনিময়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বহুদিন পর এই বিনিময় সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, রাশিয়ায় আটক থাকা প্রতিটি ইউক্রেনীয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, বেশিরভাগ মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২০২২ সাল থেকে বন্দি ছিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত রুশ সেনারা আপাতত বেলারুশে অবস্থান করছেন। এছাড়া ইউক্রেনের হেফাজত থেকে তিনজন রুশ বেসামরিক নাগরিকও ফেরত আনা হয়েছে, যাদের কুরস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে।
আবুধাবির আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় মূলত ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিরোধ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা গেছে। মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে কিয়েভ ইউরোপীয় মিত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনাকে “গভীর ও ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করলেও স্বীকার করেছেন, এখনো বড় কাজ বাকি। জেলেনস্কিও বলেছেন, আলোচনা সহজ ছিল না এবং তিনি দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চান।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে রাশিয়া। চার বছরের এই সংঘাতের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
