নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নয় এবং এই নির্বাচন দেশি-বিদেশি কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
তিনি বলেন, “তারা শুধু ১২ তারিখটা পার করতে চায়। দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, ভূমিকম্প হোক—তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। ওই তারিখ পার করতে পারলেই তারা মনে করে সব দেশ তাদের পক্ষে চলে যাবে।”
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে জি এম কাদের এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, সরকার একদিকে কারচুপি করার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে ‘হ্যাঁ ভোটে’ পাশ করানোর চেষ্টা চালাবে। “যেকোনো একটা হলেই তাদের কাজ শেষ। হ্যাঁ ভোটে পাশ হলেও তাদের আর কিছু লাগবে না,” বলেন তিনি।
নির্বাচনের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অবাধ নির্বাচন বলতে বোঝায়—যেকোনো ভোটার অবাধে ভোট দিতে পারবে এবং যেকোনো রাজনৈতিক দল অবাধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
“সব দল না থাকলে নির্বাচন অবাধ হয় না। যেমন বিএনপি না থাকায় আগের নির্বাচন অবাধ হয়নি, আবার আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অবাধ হবে না—আমি এটা আগেও বলেছি, লিখেছি এবং সংসদেও বলেছি।”
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের শর্ত হলো—ভোট গণনা সঠিকভাবে হওয়া এবং সব দলের জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। কিন্তু জাতীয় পার্টি সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জি এম কাদেরের অভিযোগ, সরকার, এনসিপি ও জামায়াত কার্যত একসঙ্গে সরকারি দলের মতো কাজ করছে এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগে তাদের প্রভাব রয়েছে।
“এই অবস্থায় আমরা কোথাও ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না। নির্বাচনী প্রচারণাও সঠিকভাবে চালাতে পারছি না,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, এখনো জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মামলা দিয়ে আটক রাখা হচ্ছে, জামিন দেওয়া হচ্ছে না বা জামিন বাতিল করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুমিল্লার একটি ঘটনার উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, সেখানে জাতীয় পার্টির এক নেতা বড় সমাবেশ করার পর পুলিশ তাকে হুমকি দিয়েছে যে এলাকায় গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।
“এই ধরনের হুমকি নিয়েই আমাদের মাঠে কাজ করতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
সবশেষে জি এম কাদের বলেন, “এই নির্বাচন অবাধ নয়, সুষ্ঠু নয়। তাত্ত্বিকভাবে বললে এটি একটি ফল্টি নির্বাচন। দেশের জনগণ এটি গ্রহণ করবে না, আন্তর্জাতিক মহলও গ্রহণ করবে না। হয়তো কিছু দেশ নিজেদের স্বার্থে সমর্থন দিতে পারে, কিন্তু এটাকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলা যাবে না।”
