যথেষ্ট নারী উপস্থিতি নিয়ে সংশয় এবং পর্দা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় জামায়াতের মহিলা সমাবেশ স্থগিত

যথেষ্ট নারী উপস্থিতি নিয়ে সংশয় এবং পর্দা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় জামায়াতের মহিলা সমাবেশ স্থগিত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী ইসলামী দলগুলোর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা ‘মহিলা সমাবেশ’ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দলের মহিলা শাখার ফেসবুক পেজে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জামায়াত-সংশ্লিষ্ট নারী নেত্রী ও কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া এবং খোলা ময়দানে পর্দা বা নারীদের সম্মান লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের ওপর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে, যা প্রতিবাদের জন্য এই প্রকাশ্য সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এদিকে, চলমান নির্বাচনে ইসলামী ধারার দলগুলোর (জামায়াতে ইসলামীসহ) কোনো নারী প্রার্থী না থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে। জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও একজনও নারী প্রার্থী নেই। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ অন্তত ৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। সার্বিকভাবে নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি।

এ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে—ইসলামী জোট যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তাহলে নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কি হুমকির মুখে পড়বে?

জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিলেও দলীয় নেতৃত্ব বা প্রার্থী হিসেবে তাদের অনুপস্থিতি অনেকের কাছে নারী-অবান্ধব নীতির ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারে নারীদের সক্রিয়তা দেখালেও দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রার্থী মনোনয়নে নারীদের অন্তর্ভুক্ত না করা নারী ক্ষমতায়নের প্রতি প্রকৃত প্রতিশ্রুতির অভাব প্রকাশ করে।

জামায়াতের একাধিক নেতা অতীতে নারী নেতৃত্ব নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন, যা এখন আরও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

এই ঘটনা ও পরিসংখ্যান দেশের নারী সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ইসলামী জোটের ক্ষমতায় আসলে নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া আসেনি।

নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, নারী অধিকারের প্রশ্নটি এখন আরও জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today