মানবিক প্যারোল না দেওয়ায় ইউনূস সরকারের তীব্র নিন্দা জিবিইউএনের

মানবিক প্যারোল না দেওয়ায় ইউনূস সরকারের তীব্র নিন্দা জিবিইউএনের
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মানবিক প্যারোল না দেওয়ায় ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন)।

সংগঠনটির অভিযোগ, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন অমানবিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন স্বামী ও পিতাকে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানের দাফন ও জানাজায় অংশ নেওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালি (২২) এবং তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু পুত্র নাজিফ সম্প্রতি বাগেরহাটের নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, স্বর্ণালির মরদেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটিকে একই কক্ষে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে দাবি করেছে জিবিইউএন।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর তার পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক বিবেচনায় সাময়িক প্যারোলের আবেদন জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরিবর্তে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ দিয়ে পুনরায় হেফাজতে নেওয়া হয়। এতে তিনি জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারেননি।

জিবিইউএনের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নৈতিক দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা আইনি অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি বন্দির মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকা উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় সরকারের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদগুলোর পরিপন্থী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) নির্যাতনবিরোধী ধারা এবং বন্দিদের মানবিক আচরণের নির্দেশনার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক।

ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জিবিইউএন পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—মানবিক প্যারোল প্রত্যাখ্যানের কারণ প্রকাশ, স্বাধীন তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্যারোল নীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জুয়েল হাসান সাদ্দামের জন্য মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি, সংগঠনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে।

জিবিইউএনের নেতারা বলেন, “মানবাধিকার কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি একটি সার্বজনীন দায়িত্ব। একজন শোকাহত স্বামী ও পিতার প্রতি সহানুভূতি দেখাতে ব্যর্থ হলে কোনো সরকার তার নৈতিক বৈধতা হারায়।”

সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, তারা হেফাজতে থাকা নাগরিকদের ওপর যেকোনো ধরনের অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

Visited 10 times, 1 visit(s) today