বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেশ ত্যাগ করেছেন বলে খবর দিয়ে পরে তা ভুল হওয়া বিপাকে পড়েছে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি সান। ভুল খবরের জন্য ক্ষমাও চেয়েছে তারা। তবে তাদের দেওয়া খবরের সত্যতা ঘাটতে গিয়ে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা গেছে রোববার মধ্যরাতের পর অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইট ধরতে বুলবুল ঠিকই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তাকে সেখানে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিসিবি নিয়োজিত তারই গাড়ির চালক। তবে ফ্লাইটে না উঠে তিনি ফিরে চলে আসেন। পরদিন (সোমবার) সকালে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির হলে হতবাক হয়ে যান অনেকে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব থাকা বুলবুলের পরিবারও সেদেশে বসবাস করে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে অনেকটা সময় থাকলেও প্রায়ই তিনি ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ায় যান। বুলবুল ঢাকায় মূলত থাকেন পাঁচ-তারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে। সেখানে তার সারা বছরের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া করে রেখেছে বিসিবি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইট ধরতে মধ্যরাতের কিছু আগে হোটেল থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।
বিমানবন্দরে গিয়ে প্রবেশের পর নিরাপত্তা দ্বার পেরিয়ে যান এই সাবেক অধিনায়ক। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রেই অনেকেই তার দেশ ত্যাগের খবর পেয়েছিলেন। তবে তিনি ফ্লাইট না ধরে আবার কীভাবে বেরিয়ে এসেছেন, এবং কেন এসেছেন তা নিয়ে রহস্য থেকে গেছে।
বিমানবন্দর থেকে বিসিবি বরাদ্দকৃত গাড়িতে আর ফেরেননি তিনি। পরদিন সকালে চালকে ডেকে বিসিবি কার্যালয়ে গেলে বিস্মিত হন সংশ্লিষ্টরা।
বুলবুলের অস্ট্রেলিয়া অভিমুখে একমুখী দুটো টিকেট কেটে রাখার তথ্য মিলেছে। একটি ২৬ জানুয়ারি প্রথম প্রহর, আরেক টিকেট ৯ ফেব্রুয়ারি। বিসিবি সভাপতি হিসেবে তার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া-আসার বিজনেস ক্লাসের টিকেট সরবরাহ করে থাকে বিসিবি।
বিসিবির লজিস্টিকস বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ‘তার নামে দুই তারিখের দুটি টিকেট কেটে রাখা ছিলো। তিনি সাধারণত একমুখী টিকেট কেটেই অস্ট্রেলিয়ায় যান।ফেরার দিন তারিখ পরে ঠিক হলে সেটা পরে কাটতে বলেন।’ দ্বৈত নাগরিক বুলবুলের জন্য অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে উভয়মুখী টিকেট কেটে রাখার বাধ্যকতা নেই।
বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘তিনি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, পরিবারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। সেভাবেই সব পরিকল্পনা করে আমাদের কাউকে কাউকে আভাস দিয়েছিলেন। তবে বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি একটি ফোনকল পেয়ে ফিরে আসেন বলে আমরা জেনেছি।’
বুলবুলকে ফোন করে কে আটকে দিয়েছেন আর কেনই বা দিয়েছেন তা আপাতত অস্পষ্ট। তবে বিসিবিকে নিয়ন্ত্রণ করার সরকারী প্রশাসনের কেউই এমনটা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুলবুল নিজের দেশে অবস্থান জানান দিতে চাইলেও কোন কিছু স্পষ্ট করছেন না।
সরকারের নির্দেশে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজী হয়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ হওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে বিসিবি। বিপিএলে ফিক্সিং বিতর্ক ও বোর্ডের ভেতর কয়েকজন পরিচালকের দ্বন্দ্বে বিপাকে আছেন বুলবুল। আইসিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েও নিজের অবস্থান নষ্ট করেছেন তিনি। বিসিবির দায়িত্ব ছাড়ার পর আর আইসিসিতেও ফেরার উপায় নেই তার।
