শিক্ষার্থীদের খরচে মেটাতে মধ্যবিত্তের রেশনিং আর নিম্নেবিত্তের ঝরে যাবার শংকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বছর শুরু হতেই শিক্ষাসামগ্রীর দাম গড়ে ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তীব্র হয়েছে। বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কুল ব্যাগ—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা, যা গত দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে ফাস্টফুড শপে যাওয়া, বাইরে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া এবং বিনোদনের খরচ কাটছাঁট করে শুধু আবশ্যকীয় খরচ মেটাতে হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর মাঝারি মানের পেন্সিলের ডজন ৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও এবার তা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের স্কুল ব্যাগ ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকারও ওপরে উঠেছে। বইয়ের দামও একই হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানের স্কুল শুরুর প্রস্তুতিতেই বাজেট ছাড়িয়ে যাচ্ছে, বাকি খরচ কমিয়ে না দিলে চলছে না।
বছর দুই আগেও পরিবারগুলোকে ঘোরাঘুরি বা বিনোদনের খরচ নিয়ে এতটা ভাবতে হয়নি। সপ্তাহান্তে বাইরে খাওয়া, সিনেমা দেখা বা পার্কে ঘুরতে যাওয়া ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির (২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৯.৪৯%) কারণে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে বিনোদনের মতো ‘অপ্রয়োজনীয়’ খাত থেকে টাকা সরিয়ে আনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর ২০২৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিক্ষা খাতের বাড়তি খরচ মেটাতে অনেক পরিবার ঋণ নিচ্ছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন কমিয়ে দিচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিক্ষা এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট দমন এবং শিক্ষাসামগ্রীতে ভর্তুকি বাড়িয়ে অভিভাবকদের এই চাপ কমানো। অন্যথায় শিক্ষার সার্বজনীন অধিকার ও পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
