নিজস্ব সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ উদ্বোধনের প্রায় একমাস হয়ে অতিবাহিত হলেও অর্ধেক প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। বিলম্বিত কাজ টেকসই হবেনা এবং হাওরের বোরো ফসল পাহাড়ি ঢলের ঝূঁকিতে থাকবে এই উদ্বেগ জানিয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরে স্মারকলিপিসহ সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা নীতিমালা উপেক্ষা করে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন, অনুমোদনসহ বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগও করেছেন তারা। এদিকে দিরাই শাল্লা উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাধের কাজ প্রশাসনকে চাপ দিয়ে পাইয়ে দিয়েছেন এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শিশির মনির।
সাবেক এমপি নাছির চৌধুরী: শিশির মনির কুখ্যাত রাজাকারের ছেলে, তার পুরো পরিবার গণহত্যায় জড়িত
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাবিটা কমিটিতে নিষিদ্ধ করলেও শিশির মনির সারাজেলায় এমনকি নিজ উপজেলায় জামায়াতের লোকজনকে বিভিন্ন পরিচয়ে কমিটিতে রাখতে প্রশাসনকে বাধ্য করেছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে জেলার ছোট বড়ো ৪২টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতে ৭০৫টি পিআইসি (প্রকল্প) অনুমোদন দিয়েছে জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ নির্মাণ করার কথা গত ১৫ই ডিসেম্বর। তবে এখনো অর্ধেক প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন প্রায় ৩ শর অধিক পিআইসি কাজ শুরু করেছে। বাস্তবে অর্ধেক কাজও শুরু হয়নি।

ছবি: সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া লোক দেখানো কাজ উদ্বোধন করেন দিরাইয়ে। শিশির মনিরের কথা ছাড়া তিনি কাউকেই কমিটিতে রাখছেন না বলে অভিযোগ
উল্লেখ্য, কাবিটা নীতিমালা অনুসারে গত ১৫ই ডিসেম্বর বাধের কাজ শুরু করা হয়েছিল। এটাকে নিয়মরক্ষা উদ্বোধন হিসেবে মন্তব্য করেছেন হাওরে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। বিলম্বে কাজ শুরু করায় আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্ধেক কাজও শেষ হবেনা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
আজ পেরুয়া গণহত্যা দিবস: শিশির মনিরের বাবা-চাচার নেতৃত্বে ধর্মান্তরিত করে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় ২৬ জনকে
গত ৭ই জানুয়ারি হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে বাধের কাজে বিলম্বের পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিলম্বে কাজ শুরু ও কাজ এখনো শুরু না করায় উদ্বেগ জানিয়ে এবার পিআইসি গঠনে অনিয়ম, দুর্নীতি, অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণসহ নানা অভিযোগ এনেছেন তারা।
দিরাই শাল্লার প্রকৃত কৃষকরা জানান, শিশির মনির তার লোকদের পিআইসি দিতে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু জেলা প্রশাসক ও কাবিটা কমিটির সভাপতি ড. মো. ইলিয়াস মিয়াকে আহ্বান জানান। ইলিয়াস মিয়া শিশির মনির এ বিষয়ে যে পরামর্শ দিয়েছেন সেই পরামর্শ মেনেই প্রকল্প গ্রহণ ও পিআইসিতে কমিটি নিয়োগ দিয়েছেন।
শিশির মনিরের প্রস্তাব: বিএনপিকে হটিয়ে জাময়াত-শিবিরকে নিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কমিটি গঠন
জানা গেছে, শাল্লায় উপজেলায় ৩০ কোটি এবং দিরাইয়ে ২০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুটি উপজেলায় প্রায় ২৫০টি পিআইসি গঠিত হয়েছে। এই দুটি উপজেলায় প্রকল্প অনুমোদনকারী যে কমিটি গঠিত হয়েছে সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের নামে শিশির মনির তার লোকদেরই নিয়োগ দিয়েছেন। এওখন দুটি উপজেলায় তার লোকজনকেই পিআইসি দেওয়া হচ্ছে।
তার লোকজন কৃষকদের কাছ থেকে ১ থেকে ২ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে পিআইসির অনুমোদন দিচ্ছে। এ কাজে সহযোগিতা করছেন শিশির মনিরের বন্ধু সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিরাই উপজেলার এক কৃষক বলেন, শিশির মনির শুধু দিরাই শাল্লা নয় পুরো জেলার প্রশাসন চালাচ্ছে। সে যা বলছে প্রশাসন তাই করছে। সে বিএনপির লোকদের কমিটি থেকে বাদ দিলেও জামায়াতকে নানা সংগঠনের নামে কমিটিতে স্থান দিচ্ছে। একটি সিন্ডিকেট শিশির মনিরের প্রশ্রয়ে হাওরের বরাদ্দ লুটপাট করা শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, ফসলরক্ষা বাধের কমিটি গঠনসহ বাধের কাজেও দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে আন্দোলন করেছি। তারপরও কাজ শুরু হচ্ছেনা সব প্রকল্পে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমি আইন মেনে কাজ করছি। কারো কথায় কাজ করছিনা। শিশির মনিরের কথায় কাজ করছেন এবং জামায়াতকে নানাভাবে কমিটিতে যুক্ত করছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা।
