রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় জিবিইউএন-এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় জিবিইউএন-এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন)। সংগঠনটি জানিয়েছে, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা, খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী প্রলয় চাকী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

জিবিইউএনের বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুই মৃত্যুর ঘটনা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এটি কেবল একজন বিশিষ্ট শিল্পী ও রাজনৈতিক সংগঠকের মৃত্যু নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা, অমানবিক আচরণ এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আটক অবস্থায় প্রলয় চাকীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলেও তাকে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়নি। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার পরিবারের সদস্যদের সময়মতো তার সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানানো হয়নি, যা মানবিকতা, চিকিৎসা নৈতিকতা এবং কারা ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন হুমায়ুন কবির। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। তার ক্ষেত্রেও যথাযথ চিকিৎসা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।

জিবিইউএনের মতে, এই ঘটনাগুলো কারাবন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা, প্রশাসনিক অবহেলা এবং জবাবদিহির অভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সংগঠনটি বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় আটক একাধিক ব্যক্তির কারা হেফাজতে মৃত্যুর খবর একটি গভীর মানবাধিকার সংকেত বহন করছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা ও পক্ষপাতের ফল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কোনো মৃত্যুই সরাসরি রাষ্ট্রের দায় ও জবাবদিহির বিষয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের সময় এসব ঘটনা ঘটেছে, যা মানবাধিকার ও নৈতিক শাসনের ঘোষিত অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটির দাবি, এসব মৃত্যু সংবিধানে স্বীকৃত জীবন ও স্বাস্থ্য অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রলয় চাকী ও হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠন; দায়ী কারা কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা; অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের জন্য বাধ্যতামূলক জরুরি চিকিৎসা প্রটোকল বাস্তবায়ন; কারা চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার; নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা; এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

জিবিইউএন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো, বিশেষ দূত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কূটনৈতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা কারা হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুকে আরও উৎসাহিত করে। প্রলয় চাকী ও হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়, বরং এটি মানবিকতা, সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং আইনের শাসনের অপরিহার্য দাবি।

বিবৃতির শেষে জিবিইউএন জানিয়েছে, সত্য, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের আন্দোলন ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্কের পক্ষে ড. আবুল হাসনাত মিল্টন ও ফয়েজ খান তৌহিদ।

কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে

Visited 24 times, 1 visit(s) today