নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে এই জোটের শর্ত অনুযায়ী এনসিপি মাত্র ৩০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে, যা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, জামায়াতের কাছে এনসিপি প্রথমে ৫০টি আসন চেয়েছিল। দর-কষাকষির পর তা ৩০ আসনে নেমে আসে। এই শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না এবং জামায়াতের প্রার্থীদের সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবে।
এই খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সারা দেশে এনসিপির নেতাকর্মীরা মাসের পর মাস ক্যাম্পেইন করেছেন, শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, নমিনেশন ফর্ম বিক্রি করেছেন, তরুণদের মধ্যে নতুন রাজনীতির স্বপ্ন জাগ্রত করা হয়েছে। কিন্তু জোটের কারণে মাত্র ৩০ জনের প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ায় বাকি শত শত নেতা-কর্মী বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনেকে মনে করছেন, এতে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার স্বার্থ রক্ষা হলেও তৃণমূলের আশা-আকাঙ্ক্ষা জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। জুলাই চেতনার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে এই জোটের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট দলের মূল আদর্শ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এছাড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাসহ কয়েকজন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নারী নেত্রীরা বিশেষ করে এই জোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই জোট দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে দলের একাংশের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতার সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের মাঠে এই জোট নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করলেও এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট ভবিষ্যতে দলের ভিত্তি দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
