ফারুকীর নির্দেশেই শিল্পকলা একাডেমি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ক্ষুব্ধ সংস্কৃতি কর্মীরা

ফারুকীর নির্দেশেই শিল্পকলা একাডেমি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ক্ষুব্ধ সংস্কৃতি কর্মীরা
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেক

সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবন ও দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি দৈনিকের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায়, সব অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

গত শুক্রবার একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী বলেন, “অনিবার্য কারণে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।”

শিল্পকলা একাডেমির কয়েকজন কর্মকর্তাও জানান, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ছায়ানটে হামলার কারণে শিল্পকলার নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছেন।

এই শীতের সময়টায় যখন সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উৎসবে গমগম করত দেশ, শিল্পকলা একাডেমির কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো উৎসবের আয়োজন থাকত, ঠিক সেসময় উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর অত্যন্ত আদরণীয় হিসেবে পরিচিত সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সরাসরি ইন্ধনেই সকল প্রকার অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতি কর্মীরা।

সারাদেশে মাজার-দরগায় ভাঙচুর, বাউল শিল্পীদের হত্যা, হামলা-নির্যাতন, সাধনা কেন্দ্র, আখড়ায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও নাশকতার ঘটনাগুলোতে সরাসরি অংশ নেওয়া তথাকথিত তৌহিদি জনতা নামের উগ্রবাদী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাউল-লোক শিল্পীদের গ্রেপ্তার করে তাদের নাজেহাল করা হচ্ছে। এতে উগ্রবাদীরা উৎসাহিত হয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ উৎসাহে। অথচ এ নিয়ে ইউনূস সরকারের কিংবা সংস্কৃতি উপদেষ্টার কোনো মাথাব্যথা দেখা যায়নি।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ছায়ানটে নাশকতার ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ফারুকী। তিনি আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সংগঠনের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশে ছায়ানটে হামলা করা হয়েছে।

সাধারণ শিল্পী সমাজ এবং সংস্কৃতি কর্মীরা উপদেষ্টা ফারুকীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। দেশে শিল্প-সংস্কৃতির ধ্বংসসাধন, সঙ্গীত-নৃত্যানুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করা, উগ্রবাদীদের হুমকিতে মাজারের ওরস এবং লোকজ উৎসব-মেলা বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে গান গাওয়া, সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ, পালাগান-জারিগান, মঞ্চনাটক, পুতুল নাচ, নবান্ন-বসন্ত-চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবসহ বাঙালির সকল ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পালা-পার্বণ ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউনূস সরকারের সময়। এর দায়ভার সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর, এমনটাই মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমিরা।

Visited 21 times, 1 visit(s) today