তরুনদের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যা ইউনুসের, অথচ ‘তরুনরা ফিরছে লাশ হয়ে, নয়তো হচ্ছে বিনাশের কারন’

তরুনদের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যা ইউনুসের, অথচ ‘তরুনরা ফিরছে লাশ হয়ে, নয়তো হচ্ছে বিনাশের কারন’
শেয়ার করুন

স্থানীয় প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় জান্নাত হোসেন (২৭) নামে এক তরুণকে প্রতিবেশী দুই ভাইয়ের কোপে হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা কেবল একটি স্থানীয় হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অস্থিরতার একটি প্রতিচ্ছবি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের ‘গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি’ বলে আখ্যায়িত করলেও, বাস্তবে এই তারুণ্যকে দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গালভরা বুলি ছাড়া আর ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার বানানো ছাড়া তারুণ্যের জন্য দেড় বছরেও নেয়া হয়নি কোন পরিকল্পনা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে নিহতের মা জাহানারা বেগমের কান্নায় ভেঙে পড়া কণ্ঠস্বর এখনো গ্রামে অনুরণিত। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। প্রতিবেশী তারেক ও রিয়াদের ঝগড়া মেটাতে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি পেছনে গেলে দেখি, দা দিয়ে কোপাতে শুরু করেছে। ছেলে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল…”।

স্থানীয় হামদর্দ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

নিহতের বড় ভাই রাজু অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যা। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যে কেবল স্থানীয় বিরোধের ফল নয়, তা দেশের সামগ্রিক চিত্র থেকে স্পষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের শক্তির বদৌলতে ক্ষমতায় এসেছে। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে তরুণরাই ছিল মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তাদের শান্ত করা, জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করা বা কার্যক্ষম জনশক্তি হিসাবে গড়ে তোলার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং তরুণরা দিন দিন আরও উন্মত্ত ও সহিংস হয়ে উঠছে। মাদকাসক্ততা, প্রতিহিংসা, স্থানীয় বিরোধ, মবোক্রেসি, ধর্মিয় উগ্রবাদ—এসবের শিকার হয়ে তরুণরা হয় লাশ হচ্ছে, নয়তো অন্যের জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি বিজয় দিবসের ভাষণে বলেছেন, “প্রিয় দেশবাসী, আমাদের তরুণদের রক্ষা করুন। তাহলে আমরা সবাই এবং প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে।” কিন্তু এসব বক্তব্য শুধুই গালভরা বুলি, এতে কোনো ভিশন বা কর্মপরিকল্পনা নেই। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্যোগ কই? মাদক নিয়ন্ত্রণ বা স্থানীয় সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ কই?

একদিকে গ্রামে জান্নাত হোসেনের মতো তরুণরা প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সহিংসতায় তরুণ নেতাদের লাশ পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে তরুণদের জড়িত সহিংসতা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ ব্যর্থতা তরুণ শক্তিকে দেশ নির্মাণের পরিবর্তে ধ্বংসের হাতিয়ারে পরিণত করছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ‘তরুণরাই ভবিষ্যতের শক্তি’—এ কথা কেবল শূন্যগর্ভ বুলিতে পরিণত হবে। দেশের তরুণদের রক্ষা করতে হলে শুধু আহ্বান নয়, বাস্তব কর্মসূচি দরকার। নইলে লাশের মিছিল আরও দীর্ঘ হবে।

 

Visited 23 times, 1 visit(s) today