ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত–যুক্তরাষ্ট্র কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে দুই নেতা বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনার পর এক্স-এ মোদি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন পর্যালোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে যাবে। সরকারি সূত্রের বরাতে পিটিআই জানায়, দুই নেতা যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অভিন্ন স্বার্থ অগ্রসর করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, মোদি ও ট্রাম্প উভয়ই দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির গতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রধান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যা ২১শ শতকের জন্য ভারত–যুক্তরাষ্ট্র COMPACT ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের কেন্দ্রে রয়েছে।
দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন এবং কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হন। উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে উভয় পক্ষই একমত হয়। আলোচনাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক নানা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা অব্যাহত থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর।
