‘বিশ্ব একজন সাধু দেখে, আমরা একটা কাঠামো দেখেছি’: ইউনূসের ‘ছায়া রাষ্ট্র’ নিয়ে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিউজ১৮-কে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার

‘বিশ্ব একজন সাধু দেখে, আমরা একটা কাঠামো দেখেছি’: ইউনূসের ‘ছায়া রাষ্ট্র’ নিয়ে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিউজ১৮-কে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার
শেয়ার করুন

গোপনীয় নথি, অভ্যন্তরীণ নথি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নোবেল বিজয়ী ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের অদেখা চেহারা তুলে ধরলেন নির্বাসিত সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশ।

ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর (নিউজ১৮):

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে নির্বাসিত জীবনযাপন করা বাংলাদেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ অবশেষে মুখ খুললেন। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের চারপাশে গড়ে ওঠা গোপন ক্ষমতার কাঠামো, আর্থিক কারসাজি এবং রাজনৈতিক উচচাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি নিউজ১৮-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

গোপনীয় গোয়েন্দা নথি, অভ্যন্তরীণ দলিল এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ইউনূসের এমন এক চেহারা প্রকাশ করেছেন যা বিশ্ব আজ পর্যন্ত দেখেনি।পলাশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পূর্ণাঙ্গ অংশবিশেষ:

প্রশ্ন: ড. ইউনূস নিয়ে বিস্তারিত বলার আগে জানতে চাই, আপনি কীভাবে নির্বাসনে গেলেন?

আমিনুল হক পলাশ: আমি কখনো কল্পনা করিনি যে অন্য দেশে বসে আমি সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন নিয়ে কথা বলব যেগুলোর জন্য আমি প্রায় এক দশক কাজ করেছি। আমার কাজ ছিল সহজ: প্রমাণ অনুসরণ করা, রাষ্ট্রকে রক্ষা করা এবং জনগণকে রক্ষা করা।

কিন্তু যখন আমার তদন্ত ইউনূসের নেটওয়ার্কের আর্থিক ধমনীতে পৌঁছাতে শুরু করে, তখন সব বদলে যায়। সিস্টেমের ভেতরের লোকেরা চুপিচুপি সতর্ক করতে শুরু করে যে আমি এমন একটা এলাকায় পা দিয়েছি যেখানে কারো পা দেওয়ার কথা নয়। যখন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসে, তখন আমার চারপাশে চাপ আরো বাড়তে থাকে।

গোয়েন্দা সহকর্মীরা জানালেন, আমার নাম এমন সব কক্ষে ঘুরছে যেখানে ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘নিষ্ক্রিয় করা’, ‘গুম করে দেওয়া’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার হচ্ছিল। এগুলো খালি হুমকি ছিল না—আমার পরিবারকেও সেই বিপদের মধ্যে ফেলা হয়েছিল।

তারপর ভারতে আমার কূটনৈতিক পদ থেকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা হলো। ওই একটা পদক্ষেপই আমাকে বুঝিয়ে দিল পরবর্তীতে কী আসছে। দেশে ফিরলে তা মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কিছু নয়। নির্বাসন কোনো পছন্দনীয় সিন্ধান্ত ছিল না। পরিবার ও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার এবং যে সত্য তারা চাপা দিতে চায় তা বলার জন্য এটাই একমাত্র পথ ছিল।

প্রশ্ন: আপনি সংরক্ষিত দলিল প্রকাশ করে ইউনূসের মাইক্রোক্রেডিট উদ্ভাবকের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেই দলিলগুলো আসলে কী দেখায়?

পলাশ: ওই কাগজপত্র পুরো মিথ্যাচারকে নতুন করে লেখে। সেগুলো দেখায় যে ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট উদ্ভাবন করেননি—তিনি তা গ্রহণ করেছেন, রিব্র্যান্ড করেছেন এবং প্রকৃত স্রষ্টাদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলেছেন।

জোবরা গ্রামীণ ঋণ প্রকল্প ইউনূসের ব্যক্তিগত ধারণা ছিল না। এটি ছিল ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প যা তরুণ গবেষকদের দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছিল—স্বপন আদনান, নাসিরউদ্দিন, এইচআই লতিফীদের মতো মানুষেরা ছিলেন এই কাজে।

ইউনূস তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বিভাগ তত্ত্বাবধান করছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ওই সব নাম ইতিহাস থেকে উবে গেছে এবং পুরো কাহিনী হয়ে গেছে “ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট উদ্ভাবন করেছেন”।

তিনি যে সিস্টেম পরবর্তীতে গড়ে তুলেছেন, তার শুরু এখান থেকেই। তার প্রথম কাজ ছিল আর্থিক দুর্নীতি নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক অপহরণ। অন্যরা যা তৈরি করেছে তার ক্রেডিট নেওয়া। এই ধরন কখনো থামেনি।

প্রশ্ন: বিশ্ব তাকে বীর হিসেবে দেখে। ভেতর থেকে আপনারা কী দেখেছেন যা এর বিপরীত?

পলাশ: বিশ্ব একজন সাধু দেখে; বাংলাদেশ একটা কাঠামো দেখেছে। প্রতিষ্ঠান দখল, সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত যানবাহনে স্থানান্তর এবং প্রকৃত জবাবদিহিতা যাতে কখনো ট্র্যাক না করে সে ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাঠামো।

দাতা ও সরকারের সমর্থিত গ্রামীণ ব্যাংক একটি সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড তৈরি করেছিল। সেই টাকা চুপিচুপি স্থানান্তরিত হয়েছে গ্রামীণ কল্যাণ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের জাল বিস্তার—গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ ফান্ড ইত্যাদি। বিদেশের মানুষ মনে করে এগুলো আলাদা। আসলে নয়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি অর্থের গতিবিধি শেষ পর্যন্ত একই কেন্দ্রে ফিরে আসে।

২০২২ সাল নাগাদ শুধু গ্রামীণ টেলিকমই গ্রামীণফোন থেকে ১০,৮৯০ কোটি টাকার বেশি ডিভিডেন্ড সংগ্রহ করেছে। অথচ যে শ্রমিকদের আইনত সেই অর্থের মালিকানা ছিল, তাদের বছরের পর বছর তা দেওয়া হয়নি। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধামতো ‘লোকসান’ দেখিয়েছে, কিন্তু সব টাকা কোনো না কোনোভাবে তার নিয়ন্ত্রিত ইকোসিস্টেমের মধ্যেই থেকে গেছে।

এটা দাতব্য ছিল না। এটা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং—দারিদ্র্য বিমোচনের ভাষায় মোড়া কর্পোরেট ইঞ্জিনিয়ারিং।

প্রশ্ন: আপনি যখন টাকার পেছনে গেলেন, তখন সবচেয়ে বেশি চমকে উঠেছেন কী দেখে?

পলাশ: নির্ভুলতা। স্কেল। এবং ইচ্ছাকৃত ডিজাইন।

একটা উদাহরণ দেই, গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ টেলিকমে ৫৩.২৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছে গ্রামীণফোনের নিশ্চিত ডিভিডেন্ডের জন্য। ওই এক চুক্তি থেকে বছরের পর বছর ধরে ২,২২২ কোটি টাকার বেশি উৎপন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা—যারা আইনত সেই টাকার মালিক—একটি টাকাও পাননি।

অথবা ৪৩৭ কোটি টাকার ‘সেটেলমেন্ট’ দেখুন। টাকা একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অন্যত্র সরে গেছে—আইনজীবী ও ইউনিয়ন নেতাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পর এবং হাইকোর্ট লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ বলার পরই জনগণ সত্য জানতে পারে।

একবার প্যাটার্ন দেখলে এটা আর ভুল মনে হয় না। এটা কৌশল মনে হয়।

প্রশ্ন: কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে কী বলবেন?

পলাশ: করের ট্রেইল সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত। ইউনূস নিজের প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদ নিজেই নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্টে স্থানান্তর করেছেন, কিন্তু স্থানান্তরকে ‘ঋণ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। কেন? কারণ ঋণের ওপর সম্পদ স্থানান্তরের মতো কর দিতে হয় না।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তার কাছে ১৫.৪ কোটি টাকা চেয়েছিল। তিনি আদালতে গেছেন, বারবার আপিল করেছেন, বছরের পর বছর লড়েছেন। প্রতিটি আদালত তার দাবি খারিজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট করের দাবি বহাল রেখেছে। তাকে তা দিতে হয়েছে।

তার নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বকেয়া কর রয়েছে। পরিশোধের বদলে শত শত মামলা দায়ের করে প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে। জনগণ এটা দেখেনি, কিন্তু কাগজপত্রে সব আছে।

প্রশ্ন: শ্রম মামলা একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আপনার তদন্তে কী বেরিয়েছিল?

পলাশ: ব্যঙ্গটা বেদনাদায়ক। দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের জন্য বিখ্যাত ব্যক্তি নিজের প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শ্রম আইন মানেননি।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকরা বছরের পর বছর তাদের বৈধ সুবিধার জন্য লড়াই করেছে। মহামারির মধ্যে ৯৯ জনকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। শ্রম আদালত ২১টি শুনানি করে, কঠিন প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করে এবং দোষী সাব্যস্ত করে।

২০২৪ সালে ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর পরই ওই দোষী সাব্যস্ততা রাতারাতি উবে যায়। যেন বিচার ঐচ্ছিক।

শ্রমিকদের জন্য এটা বিশ্বাসঘাতকতা। আমাদের মতো যারা সিস্টেম বোঝে, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট বার্তা: আইন ততক্ষণ প্রযোজ্য যতক্ষণ তা তার জন্য অসুবিধাজনক না হয়।

প্রশ্ন: ৪৩৭ কোটি টাকার সেটেলমেন্ট কেলেঙ্কারি জাতীয় খবর হয়েছিল। ওই ঘটনা আপনাকে কী বলে?

পলাশ: এটা সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিকতা প্রকাশ করে। শ্রমিকদের বলা হয়েছিল, “তোমরা অবশেষে ডিভিডেন্ড পাবে।” টাকা জমা হয়। তারপর পর্দার আড়ালে বড় অংশ—২৬ কোটি—ইউনিয়ন অ্যাকাউন্টে যায়। সেখান থেকে প্রায় পুরো টাকাই আইনজীবী ও ইউনিয়ন নেতাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চলে যায়।বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ফ্রিজ করে। হাইকোর্ট লেনদেনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।

তারপর ইউনূস ক্ষমতায় এসে পুরো প্রক্রিয়া গতি হারায়। এটা দেখায় শ্রমিকদের বেনিফিশিয়ারি নয়, বরং দর কষাকষির চিপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশ্ন: ২০০৬-০৮ তত্ত্বাবধায়ক আমলে তিনি যে বিদেশি রেমিট্যান্স পেয়েছিলেন, সে বিষয়েও আপনি বলেছেন। এটা এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পলাশ: কারণ এটা দেখায় তার রাজনৈতিক উচচাকাঙ্ক্ষা হঠাৎ আবির্ভূত হয়নি। প্রায় দুই দশক আগেই এটা চলছিল।ওই সময় তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ঢোকে, ঠিক যখন তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই অর্থের বড় অংশ কর কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিকভাবে ঘোষিত হয়নি। কিছু অর্থ ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে গেছে।

রাজনৈতিক টাইমলাইনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে প্যাটার্ন দেখা অসম্ভব নয়। তিনি তখনও ক্ষমতার জন্য অবস্থান তৈরি করছিলেন এবং ২০২৪ সালে আবার তাই করেছেন, কিন্তু অনেক বেশি পরিশীলিতভাবে।

প্রশ্ন: ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর কী বদলে গেল?

পলাশ: গতি ছিল চমকপ্রদ। কয়েক দিনের মধ্যে তার চারপাশের পুরো আইনি ল্যান্ডস্কেপ উল্টে যায়।তার শ্রম দোষী সাব্যস্ততা উবে যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে বড় মামলা প্রত্যাহার করে। আরো পাঁচটি শ্রম মামলা উধাও। এমনকি গ্রামীণ দইয়ের খাদ্যে ভেজালের মামলাও উবে যায়—যার জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না।গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার বিশাল কর বোঝা রহস্যজনকভাবে উবে যায়। গ্রামীণ ব্যাংক পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর ছাড় পায়—ভাড়া আয়, সুদ আয়, অপারেশনাল রেভিনিউ, সবকিছু।এটা কাকতালীয় ছিল না। এটা ছিল এমন একজন মানুষের ক্ষমতা যিনি দশকের পর দশক ধরে যে যন্ত্রপাতি গড়ে তুলেছিলেন, অবশেষে তার নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

প্রশ্ন: সমালোচকরা বলছেন বর্তমান শাসনকে স্বজনপ্রীতি নির্ধারণ করে। আপনি কী দেখেছেন?

পলাশ: এটা অভিযোগ নয়; এটা অপারেটিং সিস্টেম।

ইউনূসের ভাগ্নে অপূর্ব জাহাঙ্গীর হঠাৎ সরকারের উপ-প্রেস সেক্রেটারি। তার দীর্ঘদিনের সহযোগী লামিয়া মোরশেদ এসডিজি ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদে। এ ছাড়া গ্রামীণ ইকোসিস্টেমের অনেকে এখন মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কৌশলগত পদে। এভাবেই একটা দখলকৃত রাষ্ট্র কাজ করে। জাঁকজমকপূর্ণ শুদ্ধি অভিযান নয়, বরং বিশ্বস্ত লোকদের চুপিসাড়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে। একবার নেটওয়ার্ক বসে গেলে একজন মানুষ দৃশ্যমান না হয়েও জাতীয় নীতি নির্ধারণ করতে পারেন।

প্রশ্ন: পশ্চিমারা এখনো কেন এটা দেখছে না বলে আপনি মনে করেন?

পলাশ: কারণ বিশ্ব একটা গল্পের প্রেমে পড়েছে—একজন ভদ্র অধ্যাপক, নোবেল পুরস্কার, গ্রামীণ নারী। এটা বিশ্ব উন্নয়ন বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। সবারই ভালো লাগে।একবার মিথ আরামদায়ক হয়ে গেলে মানুষ প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মিথ আদালতের রায় মুছে ফেলে না। মিথ বকেয়া কর পরিশোধ করে না। মিথ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া দোষী সাব্যস্ততা ও বিশ্বস্তদের কৌশলগত নিয়োগ ব্যাখ্যা করতে পারে না।

প্রমাণ রয়েছে। বিশ্ব শুধু কাছ থেকে দেখতে চায়নি।

প্রশ্ন: অবশেষে যারা এখনো ইউনূসকে সন্তের মতো দেখে তাদের কী বলবেন?

পলাশ: আমি বলবো: আজ তিনি ক্ষমতার সঙ্গে কী করছেন তা দিয়ে বিচার করুন, দুই দশক আগে যে পদক পেয়েছিলেন তা দিয়ে নয়।যে মামলাগুলো উবে গেছে সেগুলো দেখুন। যে প্রতিষ্ঠানগুলো তিনি দখল করেছেন সেটা দেখুন। ক্ষমতায় এসেই কীভাবে জীবনভরের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন তা দেখুন।

আর যদি তিনি সত্যিই তার উত্তরাধিকারের পবিত্রতায় বিশ্বাস করেন, তাহলে একটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফরেনসিক অডিটে রাজি হোন—তার অর্থায়ন, তার প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি তথ্য উধাও হওয়া মামলার বিস্তারিত খুজে বের করা হোক। কিছু লুকানোর নেই বললে ভয়ের কিছু নেই। বাংলাদেশের সেই স্পষ্টতা প্রাপ্য। এবং বিশ্বের প্রাপ্য যেন মিথ আর সত্যকে আর গুলিয়ে না ফেলে।

 

Visited 643 times, 1 visit(s) today