খেলাপি ঋণের সংকট শুরু জিয়ার আমলে: অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান

খেলাপি ঋণের সংকট শুরু জিয়ার আমলে: অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে খেলাপি ঋণের সংকট শুরু বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলনে ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের এমন পাঠ মূল্যায়ন করেন।

‘অকার্যকর সংসদকে’ বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, সংসদে যখন বাজেট অধিবেশন চলত, বিরোধী দল প্রায় সবসময়ই তা বর্জন করত। ফলে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি এবং এসব বিষয়ে সংসদে কখনোই সেভাবে আলোচিত হয়নি।

তিনি বলেন, আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে বাংলাদেশে যে খেলাপি ঋণের সংকট শুরু হয়েছে এবং এত বছর ধরে চলে আসছে, তা নিয়ে সংসদে কখনোই যথাযথ আলোচনা হয়নি? এমনকি এ নিয়ে কোনো অর্থবহ বা জোরালো বিতর্কও অনুষ্ঠিত হয়নি।

সংসদে কারা আসছেন সে বিষয়ে রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের ‘এলিটরা’ অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এটার মানে আপনারা এমন একটা সংসদ পাচ্ছেন যা ‘অভিজাতদের’, ‘অভিজাতদের দ্বারা’ এবং ‘অভিজাতদের জন্য’। এবং তারাই প্রকৃতপক্ষে নীতিনির্ধারণ করছে।

এ সময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ বোঝাতে গিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এটি মনে রাখা উচিৎ যে, ১৯৭০ সালে যারা সংসদে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেই সময়কার অধিকাংশ প্রার্থীই বাস ও রিকশায় চড়ে তাদের নির্বাচনি এলাকায় যেতেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তাদের আয় ও সম্পদের সক্ষমতা তেমনই ছিল।

আর আজ, নিজের একটি পাজেরো গাড়ি না থাকলে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না। বরং তাদের আকাঙ্ক্ষা থাকে যে, একবার নির্বাচিত হতে পারলেই সংসদ সদস্য হিসেবে বিশেষ সুবিধায় তারা অন্তত একটি শুল্কমুক্ত পাজেরো গাড়ি তো পাবেনই।

Visited 25 times, 1 visit(s) today