তুরস্কে ফুটবল জুয়া কেলেঙ্কারি: শীর্ষ লিগের খেলোয়াড়–কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

তুরস্কে ফুটবল জুয়া কেলেঙ্কারি: শীর্ষ লিগের খেলোয়াড়–কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
শেয়ার করুন

তুরস্কের প্রসিকিউটররা শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে জুয়া এবং ইনসাইডার বেটিং–সংক্রান্ত ব্যাপক তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন ২৯ জন সুপার লিগ ফুটবলার, ক্লাব সভাপতি, বিশ্লেষক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। ক্রমশ বিস্তৃত এই তদন্ত দেশটির পেশাদার ফুটবল অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।

ইস্তাম্বুলের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে কমপক্ষে ২৭ জন নিজেদের দলের ম্যাচে বাজি ধরেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারায়ের খেলোয়াড় মেতেহান বালতাআসি, যিনি আগেই এ কেলেঙ্কারির কারণে নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।

গত মাসে তদন্তের প্রথম ধাক্কায় ছয়জন রেফারিকে প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনে পাঠানো হয় এবং সুপার লিগের ক্লাব এয়ুপসপোরের সভাপতিকেও আটক করা হয়। জুয়া কেলেঙ্কারির বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তুর্কি ফুটবলে অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে।

প্রসিকিউটররা অন্য ২৬ জন খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের আরেক বড় ক্লাব ফেনারবাচের মিডফিল্ডার মের্ত হাকান ইয়ানদাস অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাজি ধরেছিলেন। এদিকে সংবাদমাধ্যম এ হাবের জানিয়েছে, আটক তালিকায় আদানা দেমিরস্পোরের সাবেক সভাপতি মুরাত সানজাকসহ আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে।

উল্লেখিত ক্লাবগুলোর কারও মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, ৪৬ জনের মধ্যে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং পাঁচজন দেশে নেই।

প্রসিকিউটরের অফিস আরও জানিয়েছে, দুই ক্লাব সভাপতি ২০২৩–২৪ মৌসুমে তাদের দুইটি তৃতীয়–ডিভিশন দলের মধ্যকার ম্যাচের ফল ‘প্রভাবিত করার চেষ্টা’ করেছিলেন। তদন্তের সূত্রপাতও সেই ম্যাচ থেকে—যেখানে দুটি দলের কেউই পুরো ম্যাচে গোলের কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি। তুর্কি সংবাদমাধ্যম বলছে, সেখান থেকেই ব্যাপক জাল বেটিং চক্রের খোঁজ মেলে।

এদিকে তুর্কিশ ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ) ইতোমধ্যে ১,০০০–এর বেশি খেলোয়াড়কে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে। শুধু সুপার লিগ থেকেই নিষিদ্ধ হয়েছেন ২৫ জন খেলোয়াড়। শাস্তির মেয়াদ ৪৫ দিন থেকে ১২ মাস পর্যন্ত। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে মাত্র একজন—কোন্যাসপোরের সেনেগালের উইঙ্গার আলাসানে এনদাও, যিনি এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ ডিভিশনের খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৯০০–এরও বেশি।

অক্টোবর মাসে টিএফএফ প্রায় ১৫০ জন রেফারিকে ম্যাচে বাজি ধরার অভিযোগে স্থগিত করে; পরবর্তীতে তাদের সবাইকে বরখাস্ত করা হয়।

তুরস্কের ফুটবল অঙ্গন এখন史বর্তমানের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির মুখোমুখি, এবং তদন্ত আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today