দুবাই এয়ারশোতে ভারতীয় নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। ভারতের আধুনিকায়ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তৈরি এই জেটের এটি দ্বিতীয় নথিভুক্ত দুর্ঘটনা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার কিছু পর (১০:০০ জিএমটি) দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রালে অনুষ্ঠিত এয়ারশোর প্রদর্শনী উড়ানের সময় বিমানটি নিচু উচ্চতায় উড়ে হঠাৎ আগুনের গোলায় ঘূর্ণায়মান অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। তখন এয়ারশোর শেষ দিনের প্রদর্শনী চলছিল এবং হাজারো দর্শক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, পাইলট “মারাত্মকভাবে আহত হয়ে” মারা গেছেন। আইএএফ আরও জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং পরিবারটির পাশে আছি।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তেজস জেট সম্পূর্ণভাবে আগুনে ঘেরা এবং আকাশে কালো ধোঁয়া উড়ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে আগুনের বলের মতো বিস্ফোরিত হয়।
দুবাইয়ের আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ঘটনার পরপরই দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে পাইলটের মৃত্যু “মর্মান্তিক” বলে উল্লেখ করে এবং জানায় যে অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
দুর্ঘটনাস্থল পরিষ্কার হওয়ার পর দুই ঘণ্টারও কম সময়ে এয়ারশোর উড়ান প্রদর্শনী পুনরায় শুরু হয়।
রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের প্রচেষ্টায় একটি প্রতীকী মাইলফলক। বিশেষ করে পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তায় চীন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তার প্রেক্ষাপটে তেজস ভারতের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
দুবাইয়ের এ দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।
গত মে মাসে কাশ্মীরের পাহালগামে পর্যটকদের ওপর হামলার পর ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই হয়, যেখানে দুই দেশই জঙ্গিবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা অন্তত পাঁচটি ভারতীয় জেট ভূপাতিত করেছে। প্রথমে ভারত এসব দাবি “ভুল তথ্য” হিসেবে উড়িয়ে দিলেও জুনে এক শীর্ষ ভারতীয় জেনারেল স্বীকার করেন যে বিমান বাহিনীর কিছু বিমান সত্যিই হারানো হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জুলাইয়ে বলেন, “চার বা পাঁচটি, আমার মনে হয় পাঁচটি” ভারতীয় জেট গুলি করে নামানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জমা দেওয়া মার্কিন–চীন নিরাপত্তা কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংঘাতে চীনা অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশই চীন থেকে এসেছে।
এর আগে গত মার্চে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে আরেকটি তেজস জেট পরীক্ষামূলক উড়ান চলাকালে বিধ্বস্ত হয়। সেটি ছিল বিমানটির প্রথম নথিভুক্ত দুর্ঘটনা, এবং সেখানে পাইলট বেঁচে যান।
