ক্ষতিকারক রঙ মিশিয়ে ‘মথ’-কে মুগ ডাল বলে বিক্রি!

ক্ষতিকারক রঙ মিশিয়ে ‘মথ’-কে মুগ ডাল বলে বিক্রি!
শেয়ার করুন

বাজারে ‘মথ’ নামের ডালে হলুদ রঙ মিশিয়ে তা ‘মুগ ডাল’ হিসেবে বিক্রি করা হলেও সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রতারণা বন্ধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কেবল একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে দায় শেষ করেছে। কিন্তু মাঠে কোনো অভিযান বা জবাবদিহি নেই।

২৯শে অক্টোবর, বুধবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অননুমোদিত রঙ ব্যবহার করে ‘মুগ ডাল’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে মথ ডাল, যা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এত গুরুতর অপরাধের পরও সংস্থাটি শুধুমাত্র “সতর্ক থাকুন” বলে জনগণকেই সাবধান করেছে, নিজে কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত অর্থবছরে দেশে মুগ ডালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণে ‘মথ ডাল’ আমদানি হয়েছে। কিন্তু বাজারে ‘মথ’ নামে কোনো ডাল পাওয়া যায় না। স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত মুগ ডালের নমুনার অর্ধেকেরও বেশি অংশে রঙ মেশানো পাওয়া গেছে—যা প্রমাণ করে, মথ ডাল রঙ মিশিয়ে মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডালে ব্যবহৃত এই সিনথেটিক বা টেক্সটাইল রঙ মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে থাকা অ্যারোমেটিক অ্যামাইন ও লেড (সীসা) জাতীয় উপাদান লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে। দীর্ঘমেয়াদে এই রঙয়ের রাসায়নিক উপাদান ক্যানসার, অ্যালার্জি ও ত্বকের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে, যার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিছু রঙে থাকা ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়াম যৌগ রক্তে মিশে গেলে নার্ভাস সিস্টেমের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এমন ডাল খেলে তা ধীরে ধীরে শরীরে বিষের মতো জমে, কিন্তু সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না।”

এ অবস্থায় ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের অভিযোগ—সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এই ভেজাল ব্যবসাকে উৎসাহিত করছে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ কেবল কাগজে সতর্কীকরণ জারি করছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অভিযান বা দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর এক নেতা বলেন, “সরকার এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে জনগণকে শুধু বলা হয়—‘সাবধান থাকুন’। অথচ সাবধান থাকার সুযোগই নেই, কারণ বাজারে বিশুদ্ধ পণ্য প্রায় অদৃশ্য।”

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে ভেজাল রঙ মেশানো ডাল জব্দ, ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

Visited 47 times, 1 visit(s) today