নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ২৮ অক্টোবর, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব পদকপ্রাপ্ত শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেটের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। তাঁর অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মৃত্যুর পর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর (বর্তমানে হামিদনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী ও দেশপ্রেমিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার পর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিকামী বাঙালিদের দলে যোগ দেন।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল ধলাই সীমান্তরক্ষী পোস্ট দখলের অভিযানে অংশ নেয়। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর মেশিনগান পোস্ট থেকে তীব্র গোলাগুলি হচ্ছিল। সহযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হামিদুর রহমান নিজেই সামনে এগিয়ে যান এবং হাতে থাকা গ্রেনেড দিয়ে শত্রুর মেশিনগান পোস্ট ধ্বংস করেন। ঠিক সেই সময়েই গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগে মুক্তিবাহিনী ধলাই সীমান্ত পোস্ট দখল করতে সক্ষম হয়।
হামিদুর রহমানের মরদেহ পরবর্তীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাটখোলা এলাকায় সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার পর তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ২০০৭ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার হামিদনগরে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনঃসমাহিত করা হয়।
