ব্যাংকের শেয়ার দরপতনে ফের ধাক্কা শেয়ারবাজারে, কমেছে সব সূচক ও লেনদেন

ব্যাংকের শেয়ার দরপতনে ফের ধাক্কা শেয়ারবাজারে, কমেছে সব সূচক ও লেনদেন
শেয়ার করুন

একদিনের বিরতির পর দেশের শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই ও সিএসই) ব্যাংক খাতের শেয়ার দরপতনের প্রভাবে সব সূচকই নেমে গেছে নিচে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।

গত বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারদাম বাড়ায় বাজারে কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতেই তা উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও প্রথম ঘণ্টার পর থেকেই একের পর এক ব্যাংকের শেয়ারদাম কমতে থাকে, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

রোববার ডিএসইতে ব্যাংক খাতের ৭টি কোম্পানির শেয়ারদাম বাড়লেও ২২টির দাম কমে গেছে, আর ৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ব্যাংকের দরপতনের নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য খাতেও। ফলে বাজার শেষে দাম বাড়ে ১৪২টি কোম্পানির, কমে ১৯৮টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ৫৯টির শেয়ারদাম।

মোট লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৪৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার তুলনায় ৭ কোটি টাকার কম। দিনের শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১২৬ পয়েন্টে। ডিএসই–৩০ সূচক কমেছে ১১ পয়েন্ট, অবস্থান ১ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে, আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে নেমে গেছে ১ হাজার ৮৩ পয়েন্টে।

রোববার ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ারে—১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, যার লেনদেন ১৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে ছিল ডমিনোজ স্টিল বিল্ডিং, ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার লেনদেনে। শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী কোম্পানির তালিকায় আরও ছিল রবি, সিটি ব্যাংক, সোনালী পেপার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যালস, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও ওরিয়ন ইনফিউশন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক ও লেনদেন দুইই কমেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট কমে গেছে। বাজারটিতে ১৮৮ কোম্পানির মধ্যে ৭৫টির দাম বেড়েছে, ৯২টির কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স ও আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাধা দিচ্ছে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অংশও কমছে, ফলে সামান্য বিক্রিতেও সূচক বড় ধস নামছে। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে স্থিতি ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা, ডিভিডেন্ড নীতি ও তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করতে হবে—নইলে এই নিম্নগতি দীর্ঘায়িত হবে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today