কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত বিদেশি কোচের অধীনে বিশ্বকাপ জেতেনি, তবে কার্লো আনচেলত্তি সোমবার বলেছেন, “সবকিছুরই একসময় প্রথম হয়।” তিনি এখন সেই ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিলের হয়ে।
ইতালিয়ান এই কোচ গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় দশকের মধ্যে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে ব্রাজিলের দায়িত্ব পান এবং তার অধীনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আগামী গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
ব্রাজিল মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, গত সপ্তাহে সিউলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্ব সেরারা।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি আগামী বছরের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে নিজের ও দলের জন্য ইতিহাস গড়তে চান, “আমার লক্ষ্য হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়া, দলকে তাদের সেরাটা খেলতে সাহায্য করা এবং বিশ্বকাপ জেতা।”
“অবশ্যই, কোনো বিদেশি কোচ এখনো বিশ্বকাপ জেতেননি, কিন্তু জীবনে সবকিছুরই প্রথমবার থাকে।”
ব্রাজিলকে বাছাইপর্বে বেশ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে; দক্ষিণ আমেরিকার পয়েন্ট টেবিলে তারা পঞ্চম স্থানে ছিল।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের চতুর্থ কোচ হচ্ছেন আনচেলত্তি। বোঝাই যাচ্ছে কতটা ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে দলটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিল ব্রাজিল; ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা এসতেভাও করেন দুটি গোল, আর রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও স্কোরশিটে নাম তোলেন।
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা এটিকে “জোগো বনিতো”–র (সুন্দর ফুটবল) প্রত্যাবর্তন বলে অভিহিত করলেও আনচেলত্তি বলেছেন, তার দলের শক্তি শুধু এতে সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি বলেন, “ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের সুন্দর ফুটবল খেলার ক্ষমতা আছে, তবে আপনাকে ভাবতে হবে—‘সুন্দর ফুটবল’ বলতে আপনি কী বোঝেন।”
“ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা আছে, কিন্তু সেটি দলীয় খেলাধুলা ও বল ছাড়া নড়াচড়ার সঙ্গে মিলিত হয়—আর ফুটবলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
ব্রাজিল এবার এশিয়া সফরে আছে ফরোয়ার্ড নেইমারকে ছাড়াই; উরুর চোটে তিনি অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত খেলতে পারবেন না।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার দলে ফেরার সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
আনচেলত্তি অবশ্য নেইমারের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ রাখছেন না।তিনি বলেন, “যদি নেইমার ফিট থাকে, তাহলে অবশ্যই সে জাতীয় দলে জায়গা পাবে। নেইমার ফিট থাকলে, সে বিশ্বের যেকোনো দলে খেলতে সক্ষম।”
