বিচারক ও সেনা কর্মকর্তা বিষয়ক আইনি ব্যাখ্যা চেয়ে আসিফ নজরুলকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন তারই ছাত্ররা

বিচারক ও সেনা কর্মকর্তা বিষয়ক আইনি ব্যাখ্যা চেয়ে আসিফ নজরুলকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন তারই ছাত্ররা
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি দল ও দেশের একাধিক আইনজীবী মিলে আইন উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম ওরফে আসিফ নজরুলের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তারা দেশের সাম্প্রতিক দুটি আলোচিত আইনি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আসিফ নজরুলের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেছেন।

চিঠির শুরুতে আইনজীবীরা লেখেন: “আমরা আপনার আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র এবং দেশের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত আইনজীবী। দেশের জনগণ ও আইনজীবী সমাজের বোঝার সুবিধার্থে আপনার কাছে দু’টি প্রশ্নের উত্তর বিনীতভাবে জানতে চাই।”

প্রথম প্রশ্ন: নিম্ন আদালতের ১৮ বিচারকের বাধ্যতামূলক অবসর

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ই জুলাই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্ন আদালতের ১৮ জন বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।

তবে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ঐ আইনের ১(৩) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে — “এই আইন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।”

এছাড়া, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর ৩৩ ধারাতেও বলা আছে যে, সরকারি চাকরি আইন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

তারা প্রশ্ন তোলেন, “আইনের ৪৫ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ১(৩) ধারার এক্সক্লুশন ক্লজ উপেক্ষা করা কি আইনসম্মত? বিচারকদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত কোন আইনি ভিত্তিতে নেওয়া হলো?”

দ্বিতীয় প্রশ্ন: কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে নিম্ন আদালত কর্মরত ১৫ জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাদের দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। আইনজীবীরা স্মরণ করিয়ে দেন, আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা একমাত্র কোর্ট মার্শালের — কোনো বেসামরিক ফৌজদারি আদালতের নয়।

তারা প্রশ্ন তোলেন, “আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল কীভাবে এই ওয়ারেন্ট বা বিচারিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করলো? এটি কোন আইনের অধীনে হয়েছে?”

চিঠির শেষে আইনজীবীরা লিখেছেন: “আমাদের মতো শত শত আইনজীবীর মনে এই দুটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনি যদি এ বিষয়ে স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দিতেন, তবে আমাদের আদালত ও বিচারব্যবস্থা আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারতাম।”

Visited 4 times, 1 visit(s) today