বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
সারা দেশে সরকারী বাহিনীকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, কারা হেফাজতে হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
দলের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষ এখন ভীত ও বাকরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং তাদের মৌলিক অধিকারের চুরি ও হরণ চলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ আজ এক বিপন্ন জনপদ — যেখানে জীবনের আহ্বানের চেয়ে মৃত্যুর হাতছানি বেশি। মানুষের মানবাধিকার প্রদান করা তো দূরের কথা, বরং সকল অধিকার হরণ করা হয়।”
দেশবিরোধী ও গণবিরোধী শক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে এবং সাধারণ মানুষ এক ভীতিকর অবরুদ্ধ দশায় আছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সক্রিয় রেখেছেন; এজন্যই, তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
“যেকোনোভাবে এসবের বিরুদ্ধে কথা বললেই মবসন্ত্রাস ছেড়ে দিয়ে তার টুঁটি চেপে ধরার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি বলা হয়েছে, সমগ্র দেশ যেন এক বিশাল কারাগার, এবং জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার পায় না।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করে বলা হয়েছে, বর্তমান অবৈধ দখলদার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্দিষ্ট গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে, আর সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যায় গ্রেপ্তারের ভয়ে এবং মবসন্ত্রাসের আতঙ্কে দেশবাসী আতঙ্কিত—এটি দূর করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকার নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, বলেছে দলটি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য, শিক্ষক, রিকশাচালকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কেউই রেহাই পাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ তাদের বিবৃতিতে তুলে ধরেছে, সম্প্রতি খুলনা মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন জনিকে কারা হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে—এমনভাবে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এসব ঘটানো হচ্ছে।
বিবৃতির ভাষ্য, “এই হত্যাকারীদের ক্ষেত্রে বর্তমান অবৈধ সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই এসব হত্যার দায় বর্তমান সরকারের ওপর বর্তায়।”
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের বিবৃতিতে জানায়, হয়তো এখনই এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না বা গণগ্রেপ্তার বন্ধ হচ্ছে না; তবে ভবিষ্যতে এসব হত্যার বিচারের দিন বাংলার মাটিতেই আসবে।
বিবৃতির সমাপ্তিতে একতা ও সাহস বজায় রেখে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাবেন—এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে
