নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৫: রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের উপর একদল দুর্বৃত্তের নৃশংস হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার রাত ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু অবস্থার অবনতির পর মুগদা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, কয়েকটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা ৫-৬ জন তরুণ হিরো আলমকে ঘিরে ফেলে মারধর করে। তারা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা হিরো আলমের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং ছেঁড়া টি-শার্ট। তার স্ত্রী রিয়া মনি নিশ্চিত করেছেন যে, ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’।
হিরো আলমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে রাত সোয়া ১০টায় পোস্ট করা হয়েছে: “আফতাবনগরে হিরো আলমের উপর সন্ত্রাসীদের হামলা। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” মুগদা থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম বলেন, “আফতাবনগরের শেষ মাথায় কে বা কারা হিরো আলমকে মেরেছে—এমন তথ্য পেয়েছি। ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে আমাদের দুটি টিম পাঠানো হয়েছে।” মুগদা থানার ওসি মো. সাজেদুর রহমান জানান, পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করেছে, কিন্তু শরীরের অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হিরোগিরি’ ভিডিওর জন্য বিখ্যাত। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৭ আসন থেকে অংশ নিয়ে আলোচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সেই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শেষমুহূর্তে বনানী বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তার উপর হামলার চেষ্টা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা তাকে তাড়া করে দৌড় পালাতে বাধ্য করেছে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য ১২টি দেশের দূতাবাস যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে হামলার নিন্দা করে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা পূর্ণ তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহির দাবি জানাই।” জাতিসংঘও সেই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
কিন্তু আজকের এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো সাড়া পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন: “নির্বাচনের সময় দৌড় পালানোর ভিডিওতে EU বিবৃতি দিয়েছে, কিন্তু আজ সরাসরি হামলায় সবাই নীরব কেন?”
এই ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক মাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। হিরো আলমের সমর্থকরা এখন তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সামাজিক মাধ্যমে প্রার্থনা করছেন।
