ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু: ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না, এই ভূমি আমাদের’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু: ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না, এই ভূমি আমাদের’
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের মালে অ্যাডুমিম বসতি স্থাপনে একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনো গঠিত হবে না এবং এই ভূমি ইসরায়েলের।

এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘের আসন্ন সভার পটভূমিতে যেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব যে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না। এই স্থান আমাদের, এটি আমাদের। আমরা আমাদের ঐতিহ্য, ভূমি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করব।”

তিনি আরও জানান যে, মালে অ্যাডুমিমের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে এবং এই বসতিতে ৭০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ বাস করবে। এই পরিকল্পনা, যা ‘ই-১’ প্রকল্প নামে পরিচিত, জেরুজালেমের পূর্বে ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় হাজার হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার।

এই ঘোষণা পশ্চিম তীরের অধিকৃত অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণের অংশ, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ বলে বিবেচিত। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিজে) এই ধরনের বসতি নির্মাণকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেন।

গত বছরের আইসিজে-র রায়ে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েলকে অধিকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, যিনি চরমপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, এই প্রকল্পকে ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে চিরতরে দাফন করার’ উপায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি প্যালেস্টাইনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে।” এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশ, যারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ফ্রান্স, কানাডা এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলো জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব সমর্থন করতে পারেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ এই বিবৃতিকে ‘শান্তির বিরোধী’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র অবশ্যই গঠিত হবে, এটি অনিবার্য।”

ফিলিস্তিনি নেতা হুসাম জোমলোটও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা গাজা এবং পশ্চিম তীর উভয় অঞ্চলে চলছে। এই ঘোষণা গাজা যুদ্ধের পটভূমিতে এসেছে, যেখানে হামাসের সাথে সংঘর্ষ চলছে। নেতানিয়াহু যুদ্ধের সময় IDF-এর সৈন্যদের সাহসিকতা প্রশংসা করেন এবং বলেন, “গাজায় যা শুরু হয়েছে, তা গাজায় শেষ হবে।” এই বিবৃতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার চরমপন্থী সমর্থকদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এটি আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রেজোলিউশনে ১০০-এর বেশি দেশ ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today