❐ বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকায় ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ কেভিন র্যান্ডালের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পোপ ফেস্ট’ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন নিজেদেরকে ইসলামী চেতনার ধারক-বাহক দাবি করা যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করা একটি দলের নেতা কীভাবে খ্রিস্টানদের উৎসবে শামিল হতে পারেন, যেখানে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা দেশে ইসলামী চেতনার নাম দিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, এমন প্রশ্ন করেন নেটিজেনরা।
জানা গেছে, গতকাল ১১ই সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারার একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গোলাম পরওয়ার উপস্থিত হয়ে ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূতের হাতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পোপের উদ্দেশে লেখা অভিনন্দন বার্তা তুলে দেন।
সেই বার্তায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে মিলে মুসলিমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে একযোগে কাজ করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।
এ ঘটনায় নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি দল নিজেদের ‘ইসলামের পক্ষের’ বলে দাবি করে, তখন তারা কীভাবে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয় এবং তাদের ধর্মীয় নেতাকে সরাসরি অভিনন্দনপত্র দিয়ে তাদের সাথে হাতে-হাত মিলিয়ে কাজ করার কথা জানায়? যেখানে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ কাতরাচ্ছে, নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, সেখানে জামায়াতে ইসলাম কীভাবে এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিল- এমন প্রশ্ন অন্তর্জালে উচ্চারিত হচ্ছে।
মুফতি আজিজুর রহমান নামে একজন আলেম লিখেছেন: ইসলামের ইতিহাসে মুসলিমদের জন্য সবসময় স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল- অন্য ধর্মের পূজা, উৎসব বা ধর্মীয় বিশেষ আয়োজনকে সমর্থন বা অংশগ্রহণ করা ইসলামের মৌল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সেই আয়োজনেই যোগ দিলেন। নাউযুবিল্লাহ।
পোপ ফেস্টে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকলেও, একটি ইসলামি দলের নেতার অংশগ্রহণকে দেশের সাধারণ মুসলিমরা দেখছেন ধর্মীয় আপোসনীতি, ইসলামি চেতনা নস্যাৎ এবং মুসলিমদের সাথে প্রতারণার উদাহরণ হিসেবে।
প্রশ্ন উঠেছে- জামায়াত আসলে কি ইসলামি আদর্শে কাজ করছে, নাকি পশ্চিমা কূটনীতি ও মুসলিমদের ওপর নিপীড়নকারী দেশগুলোর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইসলামি চেতনার ব্যবসা করছে!
