❐ বিশেষ প্রতিবেদক
বহুল আলোচিত ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামি আপিল বিভাগেও খালাস পেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছরের ১লা ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই মামলায় তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছিল, যা রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে ‘চ্যালেঞ্জ’ করেছিল।
২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
ইউনূস সরকারের সময় দেওয়া হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মামলার বিচার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে ‘গ্রহণযোগ্য’ ছিল না। বিশেষ করে, মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ‘নির্যাতনের মাধ্যমে’ নেওয়া হয়েছিল, এর কোনো আইনি ‘ভিত্তি’ ছিল না। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করা হয়। আপিল বিভাগও এই রায় বহাল রেখেছে।
এই রায়ের পর বিএনপির আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়। আজ ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে, যেগুলোতেও তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা
এই রায়ের ফলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ কতটা প্রশস্ত হলো, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি ছিল আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আলোচিত অন্যতম গুরুতর অভিযোগ।
ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে তার দেশে ফেরার কোনো আইনি বাধা নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান নিজেই তার ফেরার সময় ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, আগামী নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার আগে তার ফেরা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার ভুক্তভোগী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত মাহবুবা পারভীন বলেন, “আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। এই রায়ে ন্যায়বিচার পাইনি।”
তিনি এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, এই হামলার প্রকৃত দোষীদের বিচার এখনও অনিশ্চিত। ইউনূস সরকার রাজনৈতিক কৌশলে এই হামলায় জড়িত সবাইকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে মুক্ত করে দিয়েছে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীরা।
হাইকোর্ট তাদের পূর্ণাঙ্গ রায়ে মামলাটির নতুন করে তদন্তের সুপারিশ করেছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়ের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে, তবে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা এখনও তার পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে থাকতে পারে।
