❐ বিশেষ প্রতিবেদক
২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন ধসের মুখে পড়েছে। শান্তিতে নোবেল পদকজয়ী ড. ইউনূসের শাসনামলের করুণ চিত্র উঠে এসেছে ইনডেক্সে। গত বছরের তুলনায় দেশটি ৩৩ ধাপ পিছিয়ে এসে এখন বৈশ্বিক তালিকার ১২৩তম স্থানে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস ইনস্টিটিউট (আইইপি) প্রকাশিত এই সূচক বিশ্বে কোন দেশগুলো সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ তা নির্ধারণ করে থাকে। সূচক তৈরিতে বিবেচনায় নেওয়া হয় তিনটি প্রধান ক্ষেত্র—সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ।
শীর্ষ স্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বহু বছর ধরেই এক নম্বর থাকা আইসল্যান্ড। এরপর রয়েছে আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া ও ফিনল্যান্ড। উন্নত জীবনমান, স্থিতিশীল রাজনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার কারণে এসব দেশ ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।
পড়ুন: পাকিস্তানের চেয়েও ৬১ ধাপ পিছিয়ে: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সূচকে চরম অবনতি বাংলাদেশের
দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান বৈশ্বিক তালিকায় ২১তম স্থানে থেকে গোটা অঞ্চলের সেরা অবস্থান ধরে রেখেছে। ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে পেছনে ফেললেও পাকিস্তান রয়েছে আরও নিচে, বৈশ্বিক তালিকায় তাদের অবস্থান ১৪৪তম। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় শুধুমাত্র পাকিস্তানকেই পিছনে ফেলতে পেরেছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান সহিংসতা, সন্ত্রাস ও অপরাধ প্রবণতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতা এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার অবনতির কারণে বাংলাদেশের এই ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। একই সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, অভিবাসন সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার অক্ষমতাও শান্তি সূচকের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ পতন দেশটির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
