বেনাপোল দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধ, দুই দিনে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৩ কোটি টাকা

বেনাপোল দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধ, দুই দিনে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৩ কোটি টাকা
শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা

কাস্টমসের নতুন শুল্কনীতির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে মাছ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকেরা। এতে দুই দিনে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও বন্দরসংলগ্ন শ্রমিকরা।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া খাদ্যপণ্যের বড় অংশ হিমায়িত মিঠাপানির ও সামুদ্রিক মাছ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সামুদ্রিক মাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত কেজিপ্রতি ৫০ সেন্ট (প্রায় ৩৮ টাকা) শুল্কের পরিবর্তে বেনাপোল কাস্টমস আদায় করছে ৭৫ সেন্ট (প্রায় ৫৮ টাকা)। ফলে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ২৫ সেন্ট বা ২০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ট্রাকে যেকোনো ধরনের হিমায়িত মাছ থাকলেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৮০ শতাংশ মিঠাপানির মাছ ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ ধরে শুল্ক নিচ্ছে। মিঠাপানির মাছের শুল্ক কেজিপ্রতি ৭৬ ও সামুদ্রিক মাছের শুল্ক কেজিপ্রতি ৪৬ টাকা হওয়ায় এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। ট্রাকের চাকাভিত্তিক শুল্কনীতিও তাদের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা মাছ থেকে দেড় থেকে ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমসের সঙ্গে কথা বলেও সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই খরচ বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়ে মাছ আমদানি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এ অবস্থায় বন্দরের অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, আগেই আমদানি-রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছিল, এখন মাছ আমদানি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এ বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে চাননি। তবে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, অনিয়ম ঠেকাতে কিছু নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা আসওয়াদুল আলম বলেন, গতকাল থেকে কোনো মাছ আমদানি হয়নি। তবে ট্রাক এলে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন এবং নতুন নিয়মের বিষয়ে অবগত নন। হিমায়িত মাছের সঠিক ওজন নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী অভিযোগ করেননি। ব্যবসায়ীরা চাইলে কাস্টমসের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন।

Visited 19 times, 1 visit(s) today