পুতিনের ফোন কূটনীতি: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে শি, মোদিসহ বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আলাপ

পুতিনের ফোন কূটনীতি: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে শি, মোদিসহ বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আলাপ
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার চীন, ভারত এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তিন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে তিনি তাঁদের অবহিত করেন।

বুধবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠক হয়। পরে ক্রেমলিন জানায়, পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে, যদিও তারিখ, স্থান বা আলোচ্যসূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে তিন বছর পূর্তিতে শান্তি চুক্তির জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় রাশিয়া এবং রাশিয়ান রপ্তানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। চীন ও ভারত রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ফোনালাপে পুতিনকে জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও সম্পর্ক উন্নয়নকে বেইজিং স্বাগত জানায়, যা ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে সহায়ক হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুতিন চীন সফরে যাবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও পুতিন ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে খুবই ফলপ্রসূ ও বিশদ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।” এর আগে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক ঘোষণা করেন, রাশিয়ান তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লিকে শাস্তি দিতে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা পুতিনকে জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি প্রচেষ্টাকে তাঁর দেশ সম্পূর্ণ সমর্থন করে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। পুতিন জানান, রাশিয়া-মার্কিন শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আমিরাতও বিবেচনায় আছে।

শুক্রবার পুতিন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের নেতাদের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন এবং উইটকফের সফরের ফলাফল তাঁদের জানান। রাশিয়া, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই পাঁচ দেশই ব্রিকস জোটের সদস্য, যা মস্কোর দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি।

Visited 7 times, 1 visit(s) today