নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০৮ সালের ১৮ই জানুয়ারি থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরে মেকআপ সামগ্রী চুরি করে জেলে যান অভিনেত্রী বাঁধন। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন পরিচালক রাজিবুল ইসলাম রাজিব, পরিচালক এম সাখাওয়াত হোসেন, ক্যামেরাম্যান রায়হান খান, লুৎফর রহমান জর্জ, শাহেদ শরীফ খান, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, সাজ্জাদ রেজা, চিত্রলেখা গুহ, আবুল হায়াত, তনিমা হামিদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, সোনিয়াসহ আরও অনেকে।
তারা এবং দেশের একটি টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ অভিনেত্রী বাঁধনকে সে সময় প্রায় ৬ লাখ থাই বাথ অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ আর্থিক জরিমানার বিনিময়ে বাঁধনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। মিডিয়া জগতের অন্তত তিনজন ব্যক্তি বিষয়টি বিডি ডাইজেস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি সামনে এনেছেন আরেক অভিনেত্রী সোহানা সাবা। তবে অভিনেত্রী বাঁধনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে নামের শেষ অক্ষর “ন” দিয়ে বাঁধনকে ইঙ্গিত করেন। অভিনেত্রী বাঁধনকে তিনি “চোরাপা” হিসেবে অভিহিত করেন।
অভিনেত্রী সোহানা সাবার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
দিলাম #চোরাপা কে নিয়ে পোস্ট
Inbox থেকে
ঘটনার তারিখ: ১৮ জানুয়ারি ২০০৮
সেদিনই আমরা শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম। ব্যাংকক এয়ারপোর্টে পৌঁছে সেখান থেকে পাতায়া গিয়ে হোটেলে চেক-ইন করলাম। সন্ধ্যার দিকে আমরা টপস (সেন্ট্রাল পাতায়া রোডের একটি সুপারশপ যেখানে খাবারও পাওয়া যেত) এ খেতে গেলাম।
সেখানে গিয়ে দেখি প্রয়াত পরিচালক মোহন খান, পরিচালক এম সাখাওয়াত হোসেন, লুৎফর রহমান জর্জ, শাহেদ শরীফ খানসহ অনেকে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। তখনই প্রথম জানতে পারি আজ সকালে অভিনেত্রী “__ন (ওরফে চোরাপা)” ব্যাংকক এয়ারপোর্টে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন।
অভিনেত্রী “__ন (ওরফে চোরাপা)” মোহন খানের নাটকে অভিনয়ের জন্য পাতায়া গিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি মোহন ভাইয়ের ইউনিটের সদস্য ছিলেন, তাই তার টেনশন ছিল বেশি। বারবার বাংলাদেশ থেকে ফোন আসছিল তার মোবাইলে, চ্যানেল ** থেকেও ফোন আসছিল। মোহন ভাই সবাইকে ফোনে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন।
এদিকে ব্যাংকক এয়ারপোর্টে ধরা পড়া অভিনেত্রী “__ন (ওরফে চোরাপা)” মালামালসহ আটকে রাখা হয়েছিল। তাকে ছাড়ানোর জন্য চ্যানেল ** আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। শোনা যায়, প্রায় ২৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বাথ জরিমানা দিয়ে অবশেষে অভিনেত্রী “__ন (ওরফে চোরাপা)” ছাড়া হয়। তিনি পাতায়ায় ফিরে আসেন এবং তিন-চার দিন পর ঢাকায় ফিরে যান।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন:
পরিচালক রাজিবুল ইসলাম রাজিব, পরিচালক এম সাখাওয়াত হোসেন, ক্যামেরাম্যান রায়হান খান, লুৎফর রহমান জর্জ , শাহেদ শরীফ খান, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, সাজ্জাদ রেজা, চিত্রলেখা গুহ, আবুল হায়াত, তনিমা হামিদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, সোনিয়া সহ আরও অনেকে। তবে এখন তারা এ ঘটনার সাক্ষ্য দেবেন কিনা, তা জানা নেই।
বয়ানেঃ জনৈক পরিচালক।
একদিন আগে অভিনেত্রী বাঁধনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আরও একটি পোস্ট অভিনেত্রী সোহানা সাবা। ওই পোস্টটা তিনি লিখেন-
হু:_: এই যে তুমি এতগুলা মেকআপ চুরি করতে গিয়ে থাইল্যান্ডের ধরা খাইলা, জেল খাটলা,’___’ তোমাকে এতগুলা টাকা দিয়ে ছাড়াই আনলো, তুমি কি শেষ পর্যন্ত মেকআপগুলা দেশে আনতে পারছিলা? নাকি রাইখা আসতে হইছে?
চোরাপা: স্যাঁএএএর.. এ ম ন করে বলেন ক্যাঁন!! স্যাঁর …..
(ঘটনার পরে তাদের শুটিংএ প্রথম দেখা হওয়ার গল্প পরবর্তীতে আমাদের “তিনি” বলেছিলেন)
