আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের মিয়ানমার মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমারের জান্তা শাসনের মিত্র এবং তাদের সামরিক-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন।
তিনি এই পদক্ষেপকে “অগ্রহণযোগ্য” এবং “মানবাধিকারের জন্য একটি বড় পশ্চাদপসরণ” বলে অভিহিত করেছেন। এই সিদ্ধান্ত গত ২৪ জুলাই নিঃশব্দে নেওয়া হয়, যা মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অ্যান্ড্রুস বলেন, “এই সিদ্ধান্ত জান্তার অস্ত্র ব্যবসা এবং তাদের সমর্থকদের আরও উৎসাহিত করতে পারে, যারা নাগরিকদের উপর হামলায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে।”
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি ৩০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।”
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর ছিল, এবং এগুলো তুলে নেওয়া জান্তার হাতে উন্নত অস্ত্র দিয়ে নাগরিকদের উপর হামলা সহজতর করবে,” তিনি সতর্ক করে বলেন।
এই সিদ্ধান্তের সময়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ১১ জুলাই মিয়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি ট্রাম্পের “দৃঢ় নেতৃত্ব” এর প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানান।
চিঠিতে তিনি মার্কিন রপ্তানির উপর ৪০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০-২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা করেছে, তারা জান্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি কোম্পানি এবং চারজন ব্যক্তির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কেটি সার্ভিসেস অ্যান্ড লজিস্টিকস, এমসিএম গ্রুপ, সানট্যাক টেকনোলজিস এবং তাদের মালিকরা। এই কোম্পানিগুলো জান্তার অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছে এবং এটিকে মার্কিন নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছে।
তারা বলছে, এই পদক্ষেপ মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দুর্বল করতে পারে এবং জান্তার দমন-পীড়নকে আরও উৎসাহিত করবে।
২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি-এর নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়, যা দেশটিতে একটি নৃশংস গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। এই অভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।
অ্যান্ড্রুস ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “মিয়ানমারের জনগণের পাশে দাঁড়ান এবং এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। এটি জীবন-মরণের বিষয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ জান্তার হাতে আরও অস্ত্র তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা দেশটির নাগরিকদের জন্য বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনবে।
