নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের উজিরপুরে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান পল্লীতে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা থেকে মূল আসামিকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদী।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে খ্রিষ্টান পল্লীতে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী অধরা বাড়ৈ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কনক বাড়ৈ, সাগর বাড়ৈ, নিখিল বিশ্বাস, রিবিকা বিশ্বাসসহ স্থানীয় অনেক বাসিন্দা।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে অধরা জানান, গত ১লা জুলাই রাত ২টার দিকে তার ঘরে দরজায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য। তখন ভয়ে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। তারা এলে দেখতে পান, ঘরের পিছনে তার ছাগলের খামারে আগুন জ্বলছে। সেখানে ছুটে গিয়ে সবার সহযোগিতায় আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
পরে খামারে থাকা ছাগল গুণে দেখে ৩৮টি ছাগলের মধ্যে ১৮টি নেই। একটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। ফেরার পথে দেখতে পান, আবাদ করা পেঁপে ধরা শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তখন ৯৯৯ এ কল করলে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অধরা আরও বলেন, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা একটি বাটন মোবাইল ফেলে যায়, যার নম্বর ০১৮৬২-৯২৮৯৬০। ওই মোবাইল ফোনের কললিস্টে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, তাদের নাম আমি সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিই। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ শুধু ফোনের মালিককে আসামি করে মামলা দায়ের করে এবং মূল অভিযুক্তদের বাদ দেয়। এটি স্রেফ একটি আইওয়াশ মামলা।
অধরা বাড়ৈ অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ লোক দেখানো মামলা নিয়েছে। যে কারণে প্রতিপক্ষ এখন আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি”
ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যাবেন বলে জানান ভুক্তভোগী অধরা বাড়ৈ।
তিনি জানান, ঘটনার পরদিন ২রা জুলাই উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা রুজু করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল সালাম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জ্যোতির্ময়। এ বিষয়ে ওসিকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি। এসআই জ্যোতির্ময় সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলব।”
উল্লেখ্য, রাজাপুর গ্রামের জহলাল বিশ্বাসের মেয়ে অথরা বাড়ৈর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ছাগল লুটের ঘটনায় নিন্দাজ্ঞাপন করেছেন সচেতন মহল।
