নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সংস্থাটির কার্যক্রম সংকুচিত হতে শুরু করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো এর সম্পূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ। উল্লেখ্য এই সংস্থার বিরুদ্ধে বাংরাদেশসহ বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করতে নানাভাবে অর্থ দেওয়া হতো। যা তদন্তে বেরিয়ে আসে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, চলতি বছরের মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএআইডির ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করেছে। ছয় সপ্তাহের পর্যালোচনায় ৫ হাজার ২০০টি চুক্তি বাতিল করা হয়, যেগুলোর মাধ্যমে বহু দশক ধরে বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছিল।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিগুলোর একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ছিল।
গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইউএসএআইডির অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সংস্থাটি ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইউএসএআইডির বিভিন্ন কাটছাঁট তদারক করেন ইলন মাস্ক, যিনি তখন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রধান ছিলেন।
ইউএসএআইডি ১৯৬১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা ব্যবস্থার একটি প্রধান বাহন ছিল এবং প্রতিবছর প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার তহবিল পরিচালনা করত। এসব অর্থ ব্যবহৃত হতো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন খাতে, যদিও এসব সহায়তা দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ বহুবার উঠেছে।
বিশেষত বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ইউএসএআইডির তহবিল বিতরণের ক্ষেত্রে বারবার অভিযোগ এসেছে, সংস্থাটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের নামে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইউএসএআইডি উন্নয়ন সহায়তার আড়ালে কখনও কখনও সরকারবিরোধী আন্দোলন, গণমাধ্যম বা এনজিওগুলোকে তহবিল দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের সরকার গঠনে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নেপথ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে ইউএসএআইডি’র বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউএসএআইডির বন্ধ হওয়াকে অনেকে স্বাগত জানালেও, এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সহায়তা বন্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
