জামায়াত-শিবিরের হামলায় পণ্ড দেড়শ বছর পুরনো গাজীকালু-চম্পাবতী মেলা, বিএনপিকে দোষারোপ

জামায়াত-শিবিরের হামলায় পণ্ড দেড়শ বছর পুরনো গাজীকালু-চম্পাবতী মেলা, বিএনপিকে দোষারোপ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় দেড় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গাজীকালু-চম্পাবতী মেলা বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা চাপাইগাছি বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর হোগলা চাপাইগাছি বাজারে এই মেলার আয়োজন করে থাকেন স্থানীয়রা। চলতি বছর ১৭ই মে থেকে মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছিলেন। তবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবি জানায়। লোকজ মেলা হওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মেলা বসানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ঐতিহ্যবাহী এই লোকায়ত মেলাটি যেন না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দেয়। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় বিএনপির সাথে জামায়াতের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকলেও সন্ধ্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দেয় জামায়াত ও গুপ্ত সংগঠন শিবিরের সন্ত্রাসীরা। এতে মেলায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, কয়েক শ জামায়াত নেতাকর্মীর হাতে বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের কলা ব্যবসায়ী নাদের শেখ বলেন, শত বছর ধরে মেলা হয়ে আসছে। আজ দেখলাম দুই পক্ষের দাবড়াদাবড়ি। জামায়াতের লোক বেশি ছিল। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে দেশি অস্ত্র ছিল।

মেলায় অস্থায়ী দোকান বসান পাবনার চাটমোহরের আরজ আলী। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আসরের ওয়াক্তের পর থেকে জামায়াত–শিবিরের লোকজন বারবার উঠে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে সন্ধ্যার একটু আগে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে রামদা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। ভয়ে পালিয়ে গিছিলাম। পরে এসে দেখি, মালামাল কিছুই নেই। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত জামায়াত কর্মীরা— জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মহেন্দ্রপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, কুদ্দুস প্রামাণিক, তুহিন হোসেন, জিহাদ হোসেন, জামাত আলী ও ইউনুস আলী। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, বিএনপির আহত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান, বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক টিপু সুলতান, সুকুর শেখ, শরীফ ও আসাকুর রহমান। তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় পরস্পরকে দুষছেন তারা।

জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান দাবি করেন, মেলায় অশ্লীলতা ও জুয়ার কারণে আমরা আপত্তি জানালে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা সরাফাত সুলতান বলেন, জামায়াতের শতাধিক কর্মী আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তারা মেলা, বাউল সঙ্গীতসহ লোকজ উৎসব-ঐতিহ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।

উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসাইন জানান, ইসলামবিরোধী কার্যক্রমে প্রতিবাদ করায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।

শতবছর ধরে চলে আসা মেলায় এবার অনুমতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি সোলায়মান শেখ।

তিনি বলেন, “মেলা বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Visited 36 times, 1 visit(s) today